নীরব ভোটে বদলে যেতে পারে ফল, বাগেরহাট–৪ এ বাড়ছে হিসাব–নিকাশ

উপকূলের জনপদ বাগেরহাট–৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) আসনে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—এ লড়াই মিছিলের নয়, সিদ্ধান্তের। দৃশ্যমান প্রচারের চেয়ে অদৃশ্য বা নীরব ভোটযুদ্ধই এখন প্রার্থীদের জন্য বড় হিসাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের অবস্থান নিয়েই চলছে সবচেয়ে বেশি সমীকরণ।
বিজ্ঞাপন
মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে গঠিত প্রায় ৬৬৭ বর্গকিলোমিটারের এই সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬৩ জন। ২০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা জুড়ে ভোটের শেষ সময়ে এসে ভোটারদের বড় অংশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতিতে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
শুরুর দিকের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ অনেকটাই কেটে গেছে। রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন, সমর্থনের স্থানান্তর এবং একাধিক প্রার্থী প্রত্যাহারের পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র এখন তুলনামূলক স্পষ্ট। তবে মাঠে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা বড় দুই শক্তির হিসাবকে সহজ হতে দিচ্ছেন না। ফলে জয়ের ব্যবধান কেমন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন সোমনাথ দে, অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম, কাজী খায়রুজ্জামান শীপন ও মাওলানা ওমর ফারুক। প্রত্যেকে নিজ নিজ রাজনৈতিক বলয়ে ভোটার ধরে রাখার পাশাপাশি অনিশ্চিত ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
এলাকার বাজার, নৌঘাট, চায়ের দোকান কিংবা গ্রামীণ আড্ডায় এখন মূল আলোচনার বিষয় একটাই—ভোট। কে এগিয়ে, কার সংগঠন বেশি শক্ত, কার পক্ষে নীরব সমর্থন রয়েছে—এসব নিয়েই চলছে আলোচনা ও বিশ্লেষণ। অনেক ভোটারের ভাষ্য, এবারের নির্বাচনে আবেগের চেয়ে ব্যক্তি ও এলাকার স্বার্থের হিসাবই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানাতে অনাগ্রহী। তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গোপন রাখছেন। একই সঙ্গে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ও তাদের পছন্দ-অপছন্দ নিয়েও প্রার্থীদের বাড়তি নজর দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই শ্রেণির ভোটই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: নাটোরে আগুনে পুড়ে মা-মেয়ের মৃত্যু
বিএনপি নেতারা মাঠের দৃশ্যমান সমর্থন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে জামায়াত সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকাশ্যে যা দেখা যাচ্ছে তার বাইরেও নীরব ভোটের একটি বড় স্তর রয়েছে, যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে ব্যালট বাক্স খোলার পরই।
সব মিলিয়ে বাগেরহাট–৪ আসনে এবার প্রচারণার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ভোটারদের মনস্তত্ত্ব। শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত, গোপন পছন্দ এবং জটিল সমীকরণই নির্ধারণ করে দেবে বিজয়ের দিকনির্দেশ।








