জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষ : বিএনপি নেতার চোখ হারানোর খবরে মায়ের মৃত্যু

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় রাজনৈতিক সহিংসতায় গুরুতর আহত বিএনপি নেতা মাসুদ রানার একটি চোখ হারানোর খবরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার মা হাজেরা বেগম। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭০ বছর।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে নন্দীগ্রামে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় টাকা বিতরণের অভিযোগে জামায়াতের দুই কর্মীকে আটক করেন বিএনপি কর্মীরা। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার একটি চোখ স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানান।
আরও পড়ুন: বিএনপি-এনসিপির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১৩
বিজ্ঞাপন
এই খবর পরিবারে পৌঁছালে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মাসুদ রানার মা হাজেরা বেগম। আহত নেতার ছেলে সিয়াম আকন্দ জানান, বাবার চোখ হারানোর আশঙ্কার কথা শোনার পর দাদি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার আগেই তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ নেমে এসেছে। পরিবার ও স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে একই রাতে নন্দীগ্রাম উপজেলার পারশুন গ্রামে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, তার ভাই এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রবিউল ইসলাম। অপরদিকে ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া শহর শাখার সদস্য আসাদুল্লাহ হিল গালিবও আহত হয়েছেন। তারা সবাই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিজ্ঞাপন
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ভোট প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে জামায়াতের কিছু কর্মী অর্থ বিতরণ করছিলেন। দুইজনকে আটক করার পর প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতাদের ওপর মারধর করা হয়, বাড়িঘর ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। আহত শিবির নেতা আসাদুল্লাহ হিল গালিব দাবি করেন, কোনো উসকানি ছাড়াই বিএনপির একটি মিছিল তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো দেশ
বিজ্ঞাপন
বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, টাকা বিতরণের সময় জামায়াতের দুই কর্মীকে আটক করে পুলিশকে জানানো হয়েছিল। এর আগেই হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং আমাদের নেতা গুরুতর আহত হন।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, হামলার অভিযোগ সঠিক নয়। বরং তাদের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
এই ঘটনার জেরে বগুড়া-৪ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।








