মৌলভীবাজারে বড় ব্যবধানে পরাজয়, জামানত হারালেন ১৪ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১০ জন তাদের জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। নির্ধারিত ভোটের হার পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাকি ১৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশের (১২ দশমিক ৫ শতাংশ) কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবারের নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার চারটি আসনে অংশ নেওয়া ১৪ জন প্রার্থী এই শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত পর্যন্ত ভোট গণনা শেষে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, একাধিক আসনে একতরফা ভোটের কারণে অনেক প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছেন।
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা–জুড়ী): এ আসনে মোট ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন—লাঙল প্রতীকের আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন, কাপ-পিরিচ প্রতীকের বেলাল আহমদ, ট্রাক প্রতীকের মো. আব্দুন নূর এবং মাছ প্রতীকের মো. শরিফুল ইসলাম।
বিজ্ঞাপন
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া): ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— হাতপাখা প্রতীকের আব্দুল কুদ্দুছ, ঘোড়া প্রতীকের এম. জিমিউর রহমান চৌধুরী, ফুটবল প্রতীকের নওয়াব আলী আব্বাস খাঁন, লাঙল প্রতীকের মো. আব্দুল মালিক এবং কাঁচি প্রতীকের সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী।
মৌলভীবাজার-৩ (সদর–রাজনগর): এ আসনে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের আহমদ বিলাল এবং কাস্তে প্রতীকের জহর লাল দত্ত।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ): ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— শাপলা কলি প্রতীকের প্রীতম দাশ, লাঙল প্রতীকের মোহাম্মদ জরিফ হোসেন এবং মই প্রতীকের মো. আবুল হাসান।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, নির্বাচনী কৌশল এবং ভোটারদের কৌশলগত ভোট প্রদানের প্রবণতা—এসব বিষয় জামানত হারানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনেক আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে মৌলভীবাজারে বড় ব্যবধানের ফলাফল যেমন দৃষ্টি কেড়েছে, তেমনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর জামানত হারানোর ঘটনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।








