পর্যটকদের নিরাপদ সমুদ্রসৈকত ভ্রমণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ টুরিস্ট পুলিশ

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। এই সৈকতকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন শিল্পে দীর্ঘদিনের সমস্যা, দালালচক্রের প্রভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলো মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করছে টুরিস্ট পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
কক্সবাজার রিজিয়নের ডিআইজি আপেল মাহমুদ এই পরিবর্তনের মূল কারিগর। তার পেশাদারিত্ব, যুগোপযোগী পদক্ষেপ এবং জিরো টলারেন্স নীতি কক্সবাজারকে পর্যটকদের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করেছে। প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
গত এক বছরে ডিআইজি আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে কক্সবাজারে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা সফলভাবে সমাধান হয়েছে। সম্প্রতি সুগন্ধা পয়েন্টে পর্যটকদের উপর ছিনতাইয়ের চেষ্টার পর মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে পুরো চক্র গ্রেফতার করা হয় এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও কলাতলীর একটি হোটেলে পর্যটকদের অতিরিক্ত বিলের নামে আটক করার খবর পেয়ে গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করে পর্যটকদের নিরাপদে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সৈকতে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া পাঁচ বছরের এক শিশুকে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ২০ মিনিটে উদ্ধার করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এছাড়াও পর্যটকদের ব্ল্যাকমেইল করা ফটোগ্রাফারদের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং আইন অমান্যকারী কিছু ব্যক্তিকে সৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ডিআইজি আপেল মাহমুদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সৈকতের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। আগে যেখানে সন্ধ্যার পর সৈকতে যাওয়ায় পর্যটকরা দ্বিধা বোধ করতেন, এখন সেখানে মধ্যরাত পর্যন্ত পর্যটকের উপস্থিতি দেখা যায়। তার নির্দেশে সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২৪ ঘণ্টা টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, এবং অপরাধ দ্রুত শনাক্ত করতে নাইট ভিশন সিসিটিভি ও বিশেষ ইন্টারকম ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পর্যটকদের হয়রানি কমাতে কিটক্যাট (ছাতা) মালিক ও হকারদের বিষয়ে ডিজিটাল রেট চার্ট ও কিউআর কোড ভিত্তিক অভিযোগ ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
ডিআইজি আপেল মাহমুদ শুধু নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছেন না, সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায়ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। ‘প্লাস্টিকমুক্ত সৈকত’ গড়তে টুরিস্ট পুলিশ নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই প্রতিটি পর্যটক যেন কক্সবাজার থেকে সুন্দর স্মৃতি নিয়ে ফিরতে পারেন। তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। কোনো ধরনের অপরাধ বা হয়রানি এখানে বরদাশত করা হবে না।”
বিজ্ঞাপন
ডিআইজি আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে কক্সবাজারের এই নিরাপত্তা ও সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা দেশের পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।








