Logo

প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে পুকুর খনন, ক্ষতিগ্রস্ত ৫ কি.মি. সড়ক

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
শেরপুর, বগুড়া
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২০:২৭
প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে পুকুর খনন, ক্ষতিগ্রস্ত ৫ কি.মি. সড়ক
ছবি: সংগৃহীত

আবাদি জমিতে চলছে পুকুর খনন, আর সেই মাটি বহনে দিনরাত ছুটছে ড্রাম ট্রাক ও ট্রলি। টানা প্রায় দুই মাস ধরে এমন কার্যক্রমে গ্রামীণ সড়ক ভেঙে পড়ছে, কালভার্ট ধসে গেছে, দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তিন গ্রামের মানুষের জীবন। ঘটনাটি ঘটছে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের খোট্টাপাড়া গ্রামে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে বেলাল পুকুর এলাকায় দেখা যায়, দুটি এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। খনন করা মাটি পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে সাতটি ড্রাম ট্রাক ও চারটি ট্রলি। ভারী যানবাহনের চাপেই একটি কালভার্ট ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাধুবাড়ি পাকার মাথা থেকে ঘোলাগাড়ির শেষ প্রান্ত পেংরা পাড়া (কদি মুকুন্দ) পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া খোট্টাপাড়া গ্রামের ভেতরের এক কিলোমিটার ইটবিছানো সড়ক প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার উপর ইট ছিল, তা বোঝারও উপায় নেই এখন। দুই পাশের কৃষিজমির পানি চলাচলের একমাত্র কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসলের বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, খোট্টাপাড়া এলাকা থেকে দিনে-রাতে প্রায় ২০ বিঘা জমির মাটি কেটে আশপাশের এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। মির্জাপুর ও শাহবন্দেগী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই মাটি বিক্রি চলছে বলে জানান এলাকাবাসী। এতে সাধুবাড়ি পাকার মাথা থেকে ঘোলাগাড়ি ঘুটু বটতলা হয়ে পেংরা পাড়া (কদিমুকুন্দ) পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার পাকা সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ঘুটু বটতলা থেকে উচরং পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার পাকা সড়কও ব্যাপকভাবে নষ্ট হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও কার্যত খনন বন্ধ হচ্ছে না।

ঘটনাস্থলে কাজের তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুলতান মিলন জানান, স্থানীয় মাসুদ প্রায় দুই মাস ধরে পুকুরটি খনন করছেন। আগে সেখানে আট বিঘা আয়তনের একটি পুকুর ছিল, সেটিরই সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। কাজ শুরুর দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একটি এস্কেভেটরের ব্যাটারি জব্দ করেছিলেন। কিন্তু এরপরও খনন কার্যক্রম থামেনি।

গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, দিনে-রাতে ড্রাম ট্রাক ও হ্যারো চলাচল করছে। এতে ইটের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কালভার্টও ভেঙে গেছে।

বিজ্ঞাপন

আঞ্জুয়ারা বেগম ও এমিলি খাতুন জানান, ট্রাকের শব্দে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না তারা।

মো. ফজলু হক বলেন, ট্রাক চলাচলে রাস্তাগুলো শেষ হয়ে গেছে। জমির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কালভার্টটিও ভেঙে গেছে। বর্ষায় বড় সমস্যায় পড়ব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক জানান, অবৈধ খনন ও সড়ক নষ্টের অভিযোগে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেছিলেন। তবে থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পরামর্শ দেন। পরে ভয়ে আর এগোননি তিনি।

বিজ্ঞাপন

ঘোলাগাড়ী গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, তাদের চলাচলের একমাত্র পাকা সড়কটি ভারী ট্রাক ও বড় ট্রলির চাপে নষ্ট হয়ে গেছে। ট্রাক চলাচলে বাধা দিলে প্রভাবশালী মহলের চাপে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

পুকুর খননকারী মাসুদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদ বলেন, কৃষিজমিতে পুকুর খনন এবং গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ঘটনাটি তদন্তে মির্জাপুর ইউনিয়নের উপ-ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, জমির শ্রেণি পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে তার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে এক মাস আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে খননযন্ত্রের দুটি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছিল। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD