Logo

নববধূর মৃত্যু : হাসপাতালের সামনে লাশ রেখে পালালো স্বামী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
নেত্রকোণা
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২০:৩৫
নববধূর মৃত্যু : হাসপাতালের সামনে লাশ রেখে পালালো স্বামী
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রী রিনা আক্তারের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ফেলে স্বামী পিয়াল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার একে পরিকল্পিত হত্যা দাবি করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি কেন্দুয়া উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কুনাপাড়া গ্রামকে কেন্দ্র করে। নিহত রিনা আক্তার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বাশুঁরী দূর্গাশ্রম গ্রামের জাকির মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী পিয়াল মিয়া একই উপজেলার কুনাপাড়া গ্রামের মৃত বিল্লাল বেপারির ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রিনা একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। পিয়ালের চাচাতো ভাই আলালের বাসায় তাদের পরিচয় হয়। পরে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরিবারের সম্মতিতে প্রায় তিন মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের অল্প কিছুদিন পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

রিনার পরিবারের অভিযোগ, স্বামী তাকে তালাক দিতে চাইলে তিনি তাতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকে এবং শ্বশুরবাড়িতে তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

রিনার বাবা জাকির মিয়া জানান, বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পিয়ালের বড় ভাই পিয়াস ফোন করে জানান, তার মেয়ে ইফতারের পর বিষপান করেছে এবং তাকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে রিনার স্বজনরা হাসপাতালে পৌঁছালে তারা দেখতে পান, স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের সামনে মরদেহ রেখে দ্রুত সরে পড়েছেন। নিহতের পরিবারের দাবি, রিনা আত্মহত্যা করেননি; তাকে বাড়িতে হত্যা করে বিষপানের নাটক সাজানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ঘটনার পর কুনাপাড়া গ্রামে পিয়ালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির গরু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ঘরগুলোতে তালা ঝুলছে। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

পিয়ালের আপন চাচী ও সাবেক ইউপি সদস্য লাকি আক্তার দাবি করেন, তিনি ইফতারের পর নামাজ পড়তে গিয়ে পরে জানতে পারেন পিয়ালের স্ত্রী বিষপান করেছেন। তবে দাম্পত্য কলহ বা গরু সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদি মাকসুদ বলেন, বিকেলে খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মরদেহ হাসপাতালে রেখে স্বামী ও তার স্বজনরা চলে যান। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে রিনার মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার দ্রুত তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD