প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে বাল্যবিয়ে করলেন জংজিয়াং মামুসা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় প্রেমের টানে চীন থেকে এসে এক স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করার ঘটনা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চীনের গানসু প্রদেশের সানজিয়া টাউনশিপ গ্রামের বাসিন্দা জংজিয়াং মামুসা নামে এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে টাঙ্গাইলের এক কিশোরীকে বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের পাঁচটিকরি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেকের নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মেয়ে মায়া আক্তারের (১৬) সঙ্গে প্রায় এক মাস আগে ‘উইচ্যাট’ নামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় চীনা নাগরিক জংজিয়াং মামুসার। শুরুতে বন্ধুত্ব থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এরই মধ্যে মেয়ের বিয়ের বিষয়ে পরিবারে আলোচনা চলছিল। বিষয়টি জানতে পেরে মায়ার প্রতি ভালোবাসার টানে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে এসে পৌঁছান মামুসা। পরে ঘাটাইল উপজেলার পাঁচটিকরি গ্রামে অবস্থান নেন তিনি। কয়েকদিনের মধ্যেই উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে কাজী ডেকে মুসলিম রীতিনীতি অনুসারে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
বিয়ের পর থেকে নবদম্পতিকে প্রায়ই গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় খাবার যেমন মাছ, মাংস ও বিভিন্ন ধরনের সবজি খেতেও আগ্রহ প্রকাশ করছেন চীনা এই যুবক। এ দৃশ্য দেখতে এবং বিদেশি বরকে এক নজর দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে কৌতূহলী মানুষজন ভিড় করছেন মায়ার বাড়িতে।
চীনা নাগরিক জংজিয়াং মামুসা জানান, মায়ার সঙ্গে অনলাইনে পরিচয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। ভালোবাসার টানেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন এবং মায়াকে বিয়ে করেছেন। বর্তমানে পাসপোর্ট, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে মায়া আক্তারও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক বিয়েতে রূপ নেয়। স্বামীর সঙ্গে চীনে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
মায়ার বাবা আব্দুল মালেক বলেন, শুরুতে বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। তবে পরিস্থিতি ও মেয়ের ইচ্ছার কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত তিনি বিয়েতে সম্মতি দেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হলে মেয়েকে চীনে পাঠাতেও তার আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।
তবে মাত্র ১৬ বছর বয়সে স্কুলপড়ুয়া কিশোরীর বিয়ে হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনাও শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে বাল্যবিবাহ হিসেবে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে স্থানীয়দের মধ্যে চীনা নাগরিকের আগমন এবং এই বিয়ের ঘটনাকে ঘিরে কৌতূহল ও আলোচনার কমতি নেই।








