Logo

রাজনগরে রাতের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঊষা কেজি স্কুল, ভেঙে পড়েছে টিনসেট ভবন

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
রাজনগর, মৌলভীবাজার
১৬ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৫
রাজনগরে রাতের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঊষা কেজি স্কুল, ভেঙে পড়েছে টিনসেট ভবন
ছবি: প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার তেলিজুরী এলাকায় অবস্থিত ঊষা কেজি স্কুলে আকস্মিক ঝড়ে বিদ্যালয় ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৫ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে বয়ে যাওয়া প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় টিনসেট ও বাঁশ দিয়ে নির্মিত বিদ্যালয়টির বড় একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ তীব্র দমকা হাওয়া শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যালয়ের টিনসেট ছাউনি ও বাঁশের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ, টেবিলসহ বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী নষ্ট হয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা বক্স বলেন, “রাতের ঝড়ে বিদ্যালয়ের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি মুহূর্তেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কীভাবে চালু রাখা যাবে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”

বিজ্ঞাপন

সহকারী শিক্ষক হেলাল বক্স লিটন জানান, বিদ্যালয়টির কাঠামো মূলত টিনসেট ও বাঁশ দিয়ে তৈরি হওয়ায় প্রবল বাতাসে তা টিকে থাকতে পারেনি। ফলে শ্রেণিকক্ষের ভেতরের আসবাবপত্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে দ্রুত পুনর্গঠন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টিনসেটের ছাউনি ও বাঁশের বিভিন্ন অংশ ছিটকে চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ-টেবিল ভেঙে পড়ে আছে এবং পুরো পরিবেশে ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করে। আগামী ২৯ তারিখ থেকে নিয়মিত পাঠদান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয়ের জন্য দুই থেকে তিন বান টিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ঈদের ছুটির পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, তা বিবেচনা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের কর্মকর্তা পিআইও রাজু চন্দ্র পাল এবং এলজিইডি কর্মকর্তা আব্দুল গনী।

রাজনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বিদ্যালয়টি পুনর্গঠনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী দ্রুত বিদ্যালয়টি সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD