Logo

চিনির বিকল্প হিসেবে বাড়ছে গুড়ের চাহিদা, কাপাসিয়ায় বাড়ছে আখ চাষে আগ্রহ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কাপাসিয়া, গাজীপুর
১৬ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪২
চিনির বিকল্প হিসেবে বাড়ছে গুড়ের চাহিদা, কাপাসিয়ায় বাড়ছে আখ চাষে আগ্রহ
ছবি: প্রতিনিধি

বাজারে চিনির দাম বাড়তে থাকায় গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় চিনির বিকল্প হিসেবে আখের গুড়ের চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন লোকসানের মুখে থাকা আখ চাষে আবারও আগ্রহ দেখাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আখ চাষ ও গুড় উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার টোক, রায়েদ, বারিষাব ও তরগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক নতুন করে আখ চাষ শুরু করেছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আখ থেকে তৈরি গুড় এখন অনেক পরিবারের মিষ্টিজাত খাবারের চাহিদা মেটাচ্ছে।

রায়েদ ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল করিম বলেন, “আগে আখ চাষে তেমন লাভ হতো না। কয়েক বছর অন্য ফসল করেছি। কিন্তু এখন গুড়ের চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় আবার আখ চাষ শুরু করেছি। বাজার এমন থাকলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে আখ চাষ করবো।”

বিজ্ঞাপন

বারিষাব ইউনিয়নের কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, “এ বছর প্রায় দুই বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। গুড়ের দাম ভালো থাকলে খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।”

টোক ইউনিয়নের কৃষক হাফিজ উদ্দিন বলেন, “আগে গুড় মূলত শীতকালে বেশি বিক্রি হতো। এখন সারা বছরই মানুষ গুড় কিনছে। অনেকেই চা, পায়েসসহ বিভিন্ন খাবারে চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করছেন।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি গুড় ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে গুড় উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িতরা লাভের মুখ দেখছেন।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের লোহাদী এলাকার জলপাইতলায় তিনটি গুড় তৈরির কারখানা রয়েছে। এছাড়া আমরাইদ বাজার সংলগ্ন এলাকায় আরও চারটি গুড় তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে আখ কিনে প্রক্রিয়াজাত করে গুড় তৈরি করা হচ্ছে।

আমরাইদ এলাকার একটি কারখানার মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমরা কৃষকদের কাছ থেকে আখ কিনে এনে এখানে প্রক্রিয়াজাত করে গুড় তৈরি করি। পরে পাইকারি বাজারে বিক্রি করি। এতে মোটামুটি লাভ হচ্ছে এবং প্রায় ১০টি পরিবারের জীবিকা এ কারখানার ওপর নির্ভর করছে।”

লোহাদী গ্রামের গুড় তৈরির কারিগর তাজ উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন ও রাজু মিয়া জানান, মৌসুমে প্রতিদিন কয়েক মণ আখ থেকে গুড় তৈরি করা হয়। গুড়ের চাহিদা বাড়ায় তাদের কাজও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আউলিয়া খাতুন জানান, উপজেলায় প্রায় ১,২২০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে টোক, রায়েদ, সিংহশ্রী ও বারিষাব ইউনিয়নে আখের চাষ তুলনামূলক বেশি। তিনি বলেন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়লে আখ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, আখ চাষে সরকারি সহায়তা বাড়ানো হলে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কাপাসিয়ার স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD