ঝড়ের কবলে আটকা ‘সুগন্ধা’ লঞ্চ, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

গভীর রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে চরে উঠে আটকা পড়েছে ঢাকা-হাতিয়া রুটে চলাচলকারী এমভি সুগন্ধা লঞ্চ। জোয়ার আসলেও নদীতে পানি কম থাকায় লঞ্চটি ভাসানো সম্ভব হয়নি। ফলে শতাধিক যাত্রী নিয়ে প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে চরে আটকা রয়েছে লঞ্চটি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার দিবাগত রাত রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এমভি সুগন্ধা লঞ্চটি ইলিশা ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে ঝড়ের মুখে পড়ে। প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চরভৈরবী এলাকায় চরের ওপর উঠে আটকে যায় লঞ্চটি। বিকেল ৫টার দিকে যাত্রীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা নিজেদের অসহায় পরিস্থিতি ও ভোগান্তির কথা জানান।
লঞ্চ থেকে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীকে বিষয়টি জানানো হলেও বিকেল পর্যন্ত যাত্রীদের উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, ঢাকা-হাতিয়া রুটে যাত্রী চলাচল সহজ করতে এমভি রূপসা ও এমভি সুগন্ধা নামে দুটি নতুন লঞ্চ সরকারি বরাদ্দে চালু করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার সদরঘাট থেকে এমভি সুগন্ধা লঞ্চটি উদ্বোধনী যাত্রা শুরু করে। তবে যাত্রার প্রথম রাতেই লঞ্চটি ঝড়ের কবলে পড়ে চরে আটকা পড়ে।
লঞ্চে থাকা যাত্রী মো. রাসেল বলেন, রাত ২টার দিকে লঞ্চটি চরে আটকা পড়ে। কোস্টগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা তিনটি ট্রলার পাঠানোর কথা জানায়। কিন্তু ১৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিজ্ঞাপন
আরেক যাত্রী জানান, আমার আড়াই বছরের ও ছয় মাসের দুই শিশু সন্তান এবং স্ত্রীসহ লঞ্চে আটকা আছি। সকাল থেকে ছোট বাচ্চাদের কোনো খাবার দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমাদের নামারও কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, আমরা চরম মানবিক সংকটে আছি।
লঞ্চের মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চটি চরের ওপর উঠে যায়। নিয়ন্ত্রণে রাখতে নোঙর করা হয়। পরে ভাটার কারণে পানি কমে গেলে লঞ্চটি আটকে পড়ে। জোয়ার এলেও পানি কম থাকায় ভাসানো সম্ভব হয়নি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তারা উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠানোর চেষ্টা করছে।








