Logo

জ্বালানি সংকটে ঠাকুরগাঁও, খোলা বাজারে পেট্রোল লিটার ৩৫০ টাকা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও
২৩ মার্চ, ২০২৬, ১৩:৪৭
জ্বালানি সংকটে ঠাকুরগাঁও, খোলা বাজারে পেট্রোল লিটার ৩৫০ টাকা
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে। জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল নেই, ফলে ক্রেতারা এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটে বেড়াচ্ছেন। যেখানে সীমিত পরিমাণ তেল আসে, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ালেও তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেক গ্রাহক তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। সীমিত সরবরাহও দ্রুত শেষ হওয়ায় যানবাহন চালকরা তেল ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন। কোথাও কোথাও এ নিয়ে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।

অপরদিকে, জেলার হাট-বাজারগুলোতে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, সেনিহারী বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা, ঢোলারহাটে ৩১০ টাকা, ধনিরহাটে ৩০০ টাকা এবং ভরনিয়া বাজারে ৩২০ টাকা। তবে সরকার নির্ধারিত দাম পেট্রোলের জন্য ১১৬ টাকা এবং অকটেনের জন্য ১২০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

এই বৈপরীত্যে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কৃষক ও মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, তেলের অভাবে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, সেচের মৌসুমে তেল না থাকলে ধানসহ অন্যান্য ফসল বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে। খোলা বাজারে তেল কিনতেও বেশি খরচ হচ্ছে।

একাধিক ক্রেতা ধারণা করছেন, ফিলিং স্টেশনের তেলের অভাব পরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মোটরসাইকেল চালক রাশেদ বলেন, পাম্পে তেল নেই বলা হচ্ছে, তবে খোলা বাজারে একই তেল অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। এটা এক ধরনের সিন্ডিকেটের কাজ।

সংকট নিয়ে ফিলিং স্টেশন মালিকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। চাহিদা বেশি হওয়ায় যা তেল আসে তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম জানান, অনিয়ম ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে। কেউও ছাড় পাবেন না। অবৈধভাবে তেল মজুত রাখা বা বেশি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার রাতে শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ৫০-৬০ জনের এক অজ্ঞাতপরিচয় দল স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে, এতে অন্তত দুই স্টাফ আহত হন। একই রাতে এক স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তেল কম দেওয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন।

সংকটের মধ্যে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করছেন, ফিলিং স্টেশনের তেল সীমিত রাখার মধ্যে কোনও পরিকল্পিত সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তবু সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান তেল সংকট ও অতিরিক্ত দামের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD