Logo

ঈদে বাড়ি ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল তারেকের, কিন্তু ফিরল নিথর দেহ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
নওগাঁ
২৫ মে, ২০২৬, ১৬:১৫
ঈদে বাড়ি ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল তারেকের, কিন্তু ফিরল নিথর দেহ
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই এই গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ২১ বছর বয়সী তরুণ তারেক হোসেনের ঈদে বাড়ি ফিরে বিয়ের কথা ছিল, কিন্তু সেই আনন্দের পরিবর্তে বাড়িতে পৌঁছেছে কেবল তার নিথর মরদেহ।

বিজ্ঞাপন

ভাতিজা তারেকের মৃত্যুতে মাটিতে লুটিয়ে বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন ফুফু খাদিজা। কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, অল্প দিনের মধ্যেই ভাতিজার বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। বাড়িঘর মেরামতের কাজ অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছিল সে। সবকিছু মিলিয়ে অনেক খুশিমনে এবার বাড়ি ফিরছিল। সেই তারেক এখন আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেল।

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জনের মধ্যে ৯জনের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে। জীবিকার তাগিদে ফেরিওয়ালা হিসেবে তারা কাজ করতেন নোয়াখালীতে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফেরার পথে তাদের এই মৃত্যু শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে নওগাঁর রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে। কারোর বাবা, কারোর স্বামী, আবার কেউ সন্তানের মৃতুর শোকে মুর্ছা যাচ্ছেন বার বার।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা বলছেন, মৃত ৯ জনের প্রত্যেকেই ফেরিওয়ালা হিসেবে নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চুল সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। অল্প ভাড়ায় বাড়ি ফিরতে ফেনীর মহাসড়ক থেকে রড বোঝাই ট্রাকে নওগাঁর উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছিলেন এই শ্রমজীবী মানুষরা। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে এখন অসহায় পরিবারগুলো। হতদরিদ্র এসব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

গ্রামের বাসিন্দা আজহারুল ইসলাম বলেন, একই সঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু এই গ্রামে আগে কখনো ঘটেনি। যারা মারা গেছেন, তারা সবাই জীবিকার জন্য বাইরে কাজ করতেন। বিল শুকিয়ে যাওয়ায় তারা ফেরিওয়ালা হিসেবে নোয়াখালীতে গিয়েছিলেন। মরদেহ দ্রুত ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকারকে দাঁড়ানোর দাবি জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ও থানা পুলিশের তথ্যমতে নিহতরা হলেন, রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের সুলতানের ছেলে তারেক (২১), আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল বারেক (২৪), আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশাহ (২৮), একাব্বরের ছেলে সোহাগ (২১), শহিদুলের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৬), জাদর আলীর ছেলে মাইনুল (৩০), আব্দুর রশিদের দুই ছেলে ময়নুল ও গিয়াস ও একই গ্রামের সাগর (২৬)।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, টাঙ্গাইলের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের বাড়ি মান্দা উপজেলায় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দ্রুত গ্রামের বাড়িতে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বলেও জানান তিনি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD