কক্সবাজারে কমছে বন্যার পানি, ক্ষতিগ্রস্ত ২ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ

টানা নয় দিনের বন্যার পর কক্সবাজারে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। জেলার অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো পানি জমে রয়েছে। তবে ভয়াবহ এ দুর্যোগে জেলার সাত উপজেলায় প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং লাখো মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত বন্যার পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে জেলায় মোট ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন আশ্রিত রোহিঙ্গা রয়েছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বন্যার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি ও ত্রাণ কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরা হয়।
জেলা প্রশাসন জানায়, জেলার ৭০টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পরিবারের মোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
বিজ্ঞাপন
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজাদের রহমান জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া উপজেলা। সেখানে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১১ হাজার ২৩১টি পরিবারের প্রায় ৭৫ হাজার ৫০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
এরপর রয়েছে পেকুয়া উপজেলা। সেখানে সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৮ হাজার ৫৬২টি পরিবারের ৪৫ হাজার ৪৪৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ উপজেলায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৭ হাজার ৯৮১টি পরিবারের প্রায় ৪০ হাজার ২০০ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই তিন উপজেলার জন্য ২২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, ঈদগাঁও ও মহেশখালী উপজেলাতেও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শহিদুল আলম জানান, নিহত ১৮ জন স্থানীয় বাসিন্দার মধ্যে আটজনের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আহত তিনজনের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৪৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ইউনিয়নভিত্তিক ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত নয় দিনে কক্সবাজারে ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামোর সংস্কার এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।








