Logo

তিন নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপরে, বাড়ছে নতুন বন্যার আশঙ্কা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জুলাই, ২০২৬, ১৭:০২
তিন নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপরে, বাড়ছে নতুন বন্যার আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের কয়েকটি নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় নতুন করে কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১২ জুলাই) প্রকাশিত সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে জানানো হয়, বর্তমানে পাঁচ জেলার পাঁচটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তিনটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্টে পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে সিলেট অঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট এবং নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টেও পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দুই দিনের আবহাওয়ার পরিস্থিতি বন্যার ঝুঁকি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, ফেনী ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া এবং হালদা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে এসব নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকাগুলোতেও নদীর পানি বৃদ্ধি এবং অতিবৃষ্টির কারণে স্বল্প সময়ের জন্য জলাবদ্ধতা ও প্লাবন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিলেট বিভাগের পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর এবং ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলেও নদীর পানি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বাড়তে থাকায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম এবং গাইবান্ধার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

তবে সব অঞ্চলের পরিস্থিতি একই রকম নয়। পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার কয়েকটি নদীর পানিও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ফলে এসব এলাকায় বর্তমানে যে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং নতুন করে ভারী বর্ষণ শুরু হলে পরিস্থিতি আবারও বদলে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়াবিদরাও জানিয়েছেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে কোথাও কোথাও নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD