Logo

বন্যার পূর্বাভাস থাকলেও ছিল না প্রস্তুতি, পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
১২ জুলাই, ২০২৬, ১৪:১৩
বন্যার পূর্বাভাস থাকলেও ছিল না প্রস্তুতি, পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

বন্যার পূর্বাভাস থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাবে মৌলভীবাজারে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক পরিবার দুই দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের পঞ্চানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রদীপ দাস জানান, শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত থেকে মনু নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। শনিবার সকাল নাগাদ সেই পানি ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি জমে যায়। আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে পরিবার নিয়ে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন তারা। চারদিকে পানি থাকায় রান্না করা সম্ভব হয়নি। ঘরে থাকা শুকনো খাবারও শেষ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত সরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো ত্রাণ পাননি। পানি কিছুটা কমলেও সড়কে এখনও কোমরসমান পানি থাকায় কষ্ট করে বাজারে গিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

শনিবার রাজনগর, কমলগঞ্জ ও সদর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানি নামতে শুরু করলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি। যাদের ঘরে বেশি পানি উঠেছে তারা আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। নিম্ন আয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। কেউ না খেয়ে সময় পার করছেন, কেউ আবার অন্যের সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। অনেকেই পাশের বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার এনে খাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগাম বন্যা সতর্কতা থাকলেও জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তাদের দাবি, হাজারো মানুষ পানিবন্দি হলেও খুব অল্পসংখ্যক পরিবার ত্রাণ পেয়েছে। যেসব এলাকায় যানবাহন পৌঁছাতে পারেনি, সেখানে ত্রাণও পৌঁছেনি। ফলে অনেক এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, সদরসহ পাঁচটি উপজেলার ২৮টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। সদর ও রাজনগর উপজেলার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার।

শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসন জানায়, বন্যাদুর্গতদের জন্য এক হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৯০ মেট্রিক টন চাল এবং ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রাজনগর উপজেলার ইরন মিয়া, আব্দুস শহীদ, রঞ্জিত দাস ও দিলিপ দাসসহ কয়েকজন জানান, এত দ্রুত পানি বাড়বে তা তারা কল্পনাও করেননি। তাদের ঘর, উঠান ও রাস্তায় বুকসমান পানি উঠে যায়। অনেকেই না খেয়ে রাত কাটিয়েছেন। খাবারের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, মনু নদীর পানি দ্রুত কমছে। একটি পয়েন্ট ছাড়া অধিকাংশ স্থানে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব জায়গায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। শুকনো খাবারের পাশাপাশি চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পানি কমতে শুরু করায় সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

জেবি/এইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD