Logo

ভারী বৃষ্টিতে ফের জলাবদ্ধ চট্টগ্রাম, বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও শঙ্কা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
১২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৫
ভারী বৃষ্টিতে ফের জলাবদ্ধ চট্টগ্রাম, বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

টানা বর্ষণের পর কিছুটা স্বস্তি মিললেও নতুন করে ভারী বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। রবিবার সকাল থেকে অব্যাহত বৃষ্টিপাতে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে হাঁটুপানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা এবং শ্রেণি কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ১২ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার। অল্প সময়ে এত বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা চাপ সামলাতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সকাল ১০টার দিকে নগরীর চকবাজার, বাকলিয়া, রাহাত্তারপুল, কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের ওপর হাঁটুপানি জমে রয়েছে। অনেক স্থানে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। পানির কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিভিন্ন সড়কে যানজটও তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অফিসগামী মানুষকে ছাতা ও রেইনকোট পরে পানি মাড়িয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে যেতে দেখা যায়। অনেককে জুতা হাতে নিয়ে হাঁটুসমান পানি অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকটও দেখা দেয়।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী যাত্রীরা অভিযোগ করেন, যানবাহন পাওয়া গেলেও অনেক চালক স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। ফলে বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া গুনেও গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে অনেককে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই থেকে তিন দিন চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি বলেন, এই সময়ে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে জেলার ১৫টি উপজেলা এবং মহানগর মিলিয়ে প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় অনেক এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছে সাতকানিয়া উপজেলায়। সেখানে প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ জন বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে রয়েছেন। এছাড়া বাঁশখালী উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও বন্যার কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন এলাকায় পানিতে ডুবে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় তিনজন, আনোয়ারা, সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং সাতকানিয়ায় একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীতেও দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার একদিনে জুলাই মাসের গত ৪৩ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ওই দিনের ভারী বর্ষণে আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, পতেঙ্গাসহ নগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সে সময় অসংখ্য বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ে। কয়েক দিন বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নতুন করে ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ায় আবারও জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগের আশঙ্কা বেড়েছে।

নগরীর আমবাগান আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানান, রবিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিন চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমার সম্ভাবনা নেই। ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হতে পারে এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাতায়াত এড়িয়ে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় সতর্ক থাকা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন করে শুরু হওয়া এই ভারী বর্ষণ আবারও চট্টগ্রামের দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত পানি অপসারণ এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD