Logo

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ রাজধানী ঢাকা, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৩
টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ রাজধানী ঢাকা, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে টানা রাতভর ভারী বৃষ্টির পর রবিবার সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল, বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীরা। কোথাও কোথাও বাসা থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে সড়কগুলো কার্যত ধীরগতির যানবাহনে পরিণত হয়েছে, আর ফুটপাত ডুবে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মাত্র ছয় ঘণ্টায় ঢাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অল্প সময়ে এত বেশি বৃষ্টিপাতের ফলে রাজধানীর অনেক এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা চাপ সামলাতে পারেনি। পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গ্রিন রোড, তেজতুরী বাজার, পান্থপথ, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, মনিপুর, ধানমন্ডির ২৭ ও ৩২ নম্বর সড়ক, মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কালশীসহ আরও অনেক এলাকায় সড়কের ওপর হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক স্থানে ফুটপাত সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে মিরপুরের শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাতের বৃষ্টির পর সকাল পর্যন্ত বহু স্থানে হাঁটুর ওপরে পানি জমে ছিল। অনেকেই নিজেদের বাসা কিংবা গলি থেকে বের হতে পারেননি। কোথাও কোথাও মূল সড়কে পৌঁছাতেই দীর্ঘ সময় লেগেছে।

বিজ্ঞাপন

জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনেক শিক্ষার্থী জলাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারেনি।

কাজীপাড়ার বাসিন্দা এবং এক পরীক্ষার্থীর মা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, সকালে সন্তানকে নিয়ে পরীক্ষা দিতে বের হলেও গলি থেকেই আর বের হওয়া সম্ভব হয়নি। গলির মধ্যে হাঁটুর ওপরে পানি থাকায় ফিরে যেতে বাধ্য হন তারা।

তবে বৃষ্টি কিংবা জলাবদ্ধতা সত্ত্বেও কর্মস্থলে যাওয়ার বিকল্প ছিল না অধিকাংশ মানুষের। তাই অনেকেই ছাতা হাতে নিয়ে পানির মধ্য দিয়েই অফিস কিংবা জরুরি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু রাস্তায় জমে থাকা নোংরা পানির কারণে জুতা, কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী ভিজে যায়। এতে কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

সড়কে জমে থাকা পানির কারণে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির গতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ধীরগতিতে চলাচলের ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া চলন্ত গাড়ির চাকায় তৈরি হওয়া ঢেউয়ের কারণে পথচারীদের গায়ে নোংরা পানি ছিটকে পড়ে, যা চলাচলকে আরও অস্বস্তিকর করে তোলে।

শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রুবেল হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলেই এলাকায় একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে হাঁটুসমান পানি জমে থাকে, ফলে বাসা থেকে বের হওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। তার অভিযোগ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবেই প্রতি বর্ষায় একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার বাসিন্দা সাবরিনা ইসলাম জানান, ছাতা সঙ্গে থাকলেও জলাবদ্ধতা এড়ানো সম্ভব হয়নি। অফিসে পৌঁছানোর আগেই তার জুতা ও পোশাক সম্পূর্ণ ভিজে যায়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত পানির নিচে থাকায় বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়েছে। কিন্তু যানবাহন চলাচলের সময় তৈরি হওয়া পানির ঢেউ পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তোলে। এতে পথচারীদের নিরাপদে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হলে রাজধানীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় দ্রুত জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও জলাধার সংকুচিত হওয়া, ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং পানি নিষ্কাশনের সীমিত সক্ষমতার কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ঢাকাবাসীকে একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট এই জলাবদ্ধতা আবারও নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। নাগরিকদের অভিযোগ, সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই যদি সড়ক ডুবে যায় এবং শিক্ষা, কর্মজীবন ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD