অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে মোবাইল ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে ঋণগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগে বিপুল চন্দ্র রায় (৩৩) নামে এক মোবাইল ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন। তার পরিবার ও পুলিশের দাবি, অনলাইন জুয়ার কারণে বিপুল বিপুল অঙ্কের ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে দেবীগঞ্জ পৌরসভার সবুজপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত বিপুল চন্দ্র রায় ওই এলাকার বাসিন্দা জগেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি দেবীগঞ্জের স্থানীয় বাজারে মোবাইল এক্সেসরিজ ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবার ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করেও বিপুলের কোনো সাড়া পাননি। পরে সন্দেহ হলে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। দ্রুত দড়ি কেটে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বিপুলের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ বা পারিবারিক কলহ ছিল না। তবে কয়েকদিন ধরে তিনি অস্বাভাবিকভাবে চুপচাপ ও চিন্তিত থাকতেন। নিয়মিত দোকানে গেলেও তাকে উদ্বিগ্ন দেখা যেত এবং রাতেও ঠিকমতো ঘুমাতে পারতেন না। তার স্ত্রী জানান, দুই দিন আগে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি যেতে রাজি হননি।
প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, বিপুলের ব্যবসা ভালোই চলছিল। সেই আয় দিয়েই তিনি স্ত্রী-সন্তান এবং বাবা-মায়ের সংসার পরিচালনা করতেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এরপর ব্যবসায় লোকসান বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে ধারদেনার পরিমাণও বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয়দের দাবি, অনলাইন জুয়ার অর্থের জোগান দিতে গিয়ে বিপুলের প্রায় ১৮ লাখ টাকার ঋণ হয়। পাশাপাশি নিজের ব্যবসায় ক্ষতি এবং ছোট ভাইকে বিদেশ পাঠানোর জন্য জমানো অর্থও হারিয়ে তিনি চরম মানসিক চাপে পড়েন। এসব কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বিজ্ঞাপন
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মূসা জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।








