পদ্মায় বাসডুবি : কেউ সাঁতরে প্রাণ বাঁচালেও নিখোঁজ বহু যাত্রী

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কিছু যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে বাঁচতে পারলেও, অনেকেই নদীর পানিতে তলিয়ে গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছে। সেখানে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় সোয়া ৫টার দিকে ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ফেরি পন্টুনে সজোরে আঘাত করে। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি পানিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তলিয়ে যায়। তবে কয়েকজন যাত্রী জানালা বা দরজা দিয়ে বের হয়ে পানির ওপর ভেসে উঠে সাঁতরে তীরে আসতে সক্ষম হন। এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে ঘাটে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাসটিতে আনুমানিক ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করতে ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও গভীরতার কারণে উদ্ধার কাজে চ্যালেঞ্জ থাকলেও সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনার পর ঘাট এলাকায় স্বজনদের আহাজারি আর উৎকণ্ঠায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি এখন উদ্ধার অভিযানের দিকে।








