Logo

দুশ্চিন্তায় ঈদ কাটছে মৌলভীবাজারের হাজারো কৃষকের

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
২৮ মে, ২০২৬, ১২:০৫
দুশ্চিন্তায় ঈদ কাটছে মৌলভীবাজারের হাজারো কৃষকের
ছবি: সংগৃহীত

চারদিকে ঈদের আনন্দ আর উৎসবের আমেজ। কিন্তু মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক পরিবারের ঘরে এবার নেই সেই আনন্দের ছোঁয়া। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে বোরো ধানের ক্ষেত, নষ্ট হয়েছে বছরের একমাত্র সম্বল। ফলে ঈদের আনন্দ এখন তাদের কাছে শুধুই দীর্ঘশ্বাস আর দুশ্চিন্তার নাম।

বিজ্ঞাপন

জেলার হাকালুকি, কাউয়াদীঘি, হাইলসহ ছোট-বড় অন্তত ১৫টি হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে কৃষকদের শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে রাজনগর, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন হাওরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও কাটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে, আবার কোথাও জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ধান পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

অনেক কৃষক শেষ চেষ্টা হিসেবে ভেজা জমি থেকেই ধান কাটছেন। কেউ কেউ রাস্তার পাশে ধান শুকানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষকদের ভাষায়, যে ধান বিক্রি করে ঈদের খরচ চালানোর কথা ছিল, সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা ছিল, সেই ধান এখন আর ঘরে তোলাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবারে এবার ঈদের নতুন কাপড় তো দূরের কথা, ঠিকমতো খাবারের ব্যবস্থাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

হাওরপাড়ের কৃষক আব্দুল মন্নান বলেন, কয়েকদিন আগেও ধানের শীষ দেখে মনে আশা ছিল। এখন চারদিকে শুধু পানি আর ভেসে থাকা ধানগাছ। মনে হচ্ছে পানির সঙ্গে আমাদের স্বপ্নও ভেসে গেছে।

বিজ্ঞাপন

রাজনগরের কৃষক আব্দুল কাদির আক্ষেপ করে বলেন, পাহাড়ি ঢলে সব ফসল শেষ হয়ে গেছে। কিছু ধান তুলেছিলাম, সেগুলোও নষ্ট হওয়ার পথে। এবার কৃষকদের জন্য ঈদ বলে কিছু নেই।

কুলাউড়ার কৃষক নুরুল ইসলাম চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে বলেন, ধান শুকানোর জায়গা নেই, মেশিনেও নেওয়া যাচ্ছে না। পা দিয়ে মাড়িয়ে যা পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়েই কোনোমতে বাঁচার চেষ্টা করছি।

বিজ্ঞাপন

মৌলভীবাজার হাওর রক্ষা আন্দোলন কমিটি-র সদস্য সচিব খসরু চৌধুরী বলেন, আগাম বৃষ্টি কৃষকদের একেবারে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে। ঈদের সময় মানুষের ঘরে আনন্দ থাকার কথা, অথচ এখন অনেক পরিবারে শুধু দুশ্চিন্তা। দ্রুত সহায়তা না পেলে তারা আরও বিপদে পড়বে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় ৪ হাজার ২০৬ হেক্টর জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ২৭ হাজার ৪৬৩ জন কৃষক। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০১টি পরিবারকে প্রাথমিক সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জালাল উদ্দিন জানান, স্বাভাবিক সময়ের প্রায় ২৫ দিন আগেই প্রাক-বর্ষা শুরু হওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পাকা ও আধাপাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তালিকাভুক্ত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে মো. রাজীব হোসেন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পেলেই তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD