ঈদের ছুটিতে ভোগান্তি নিয়ে গাজীপুর ছেড়েছেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে লম্বা ছুটিতে নাড়ির টানে গাজীপুর ছেড়েছেন অন্তত ৩০ লাখ কর্মজীবী মানুষ। রাজধানীর নিকটবর্তী এই শিল্পাঞ্চল জেলা গাজীপুর থেকে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৭ মে) দুপুর পর্যন্ত লাখো মানুষ ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক ব্যবহার করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরেছেন। তবে এ যাত্রায় ছিল তীব্র ভোগান্তি—দীর্ঘ যানজট, যানবাহনের সংকট, ভাড়া নৈরাজ্য এবং বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ঘরমুখী মানুষের প্রধান চাপ পড়ে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে। একই সঙ্গে ব্যবহৃত হয় ঢাকা–ময়মনসিংহ রুটও। শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়া-সহ পুরো গাজীপুর অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ এই পথেই যাতায়াত করে।
বিজ্ঞাপন
চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয় যাত্রীদের। স্থানীয়দের মতে, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও পর্যাপ্ত বাস টার্মিনাল না থাকাই মূল সমস্যা।
যাত্রীরা জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় বাসে উঠতে পারেননি তারা। থেমে থেমে বৃষ্টি এবং যানজটের কারণে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
পরিবহন শ্রমিক নেতা দেওয়ান জসিম বলেন, চন্দ্রা ত্রিমোড় দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হলেও এখানে পর্যাপ্ত বাস টার্মিনাল নেই এবং সড়কও যথেষ্ট প্রশস্ত নয়—যা নিয়মিত যানজটের প্রধান কারণ।
বিজ্ঞাপন
গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ গাজীপুর ছেড়েছেন। এত বড় সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে যাত্রা, বৃষ্টিসহ নানা কারণে সড়কে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
তিনি বলেন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে যানজট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে পরিকল্পিত সড়ক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা জরুরি বলে তিনি মত দেন।
বিজ্ঞাপন
শিল্পনগরী গাজীপুরে ঈদের ছুটিতে মানুষের ঢল নামলেও সড়ক ব্যবস্থার দুর্বলতা, অতিরিক্ত চাপ ও আবহাওয়ার কারণে এবারও ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ছিল কষ্টকর ও দীর্ঘ অপেক্ষার।








