ফরিদপুরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে আহত ১১

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে, যা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত উপজেলার পুড়াপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার মোল্লা ও তালুকদার গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। মোল্লা পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মশিউর মোল্লা ও জিয়া মোল্লা, অন্যদিকে তালুকদার পক্ষের নেতৃত্ব দেন সলেমান তালুকদার ও রবি তালুকদার।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৮ মার্চ। সেদিন তালুকদার গোষ্ঠীর এক সদস্য অসুস্থ অবস্থায় বাজারে গেলে একটি চায়ের দোকানে মোল্লা পক্ষের এক সদস্যের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়, যা পরে মারধরে গড়ায়। এর জের ধরে ২ এপ্রিল পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে এবং ওইদিন রাত থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তেজনা প্রশমনে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হলেও শনিবার সকালে আবারও দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দিনের বিভিন্ন সময়ে পাঁচ দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুর চলে। এতে অন্তত ১৩টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি বাড়ির রান্নাঘরে আগুন দেওয়া হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে মোল্লা পক্ষের চারজন এবং তালুকদার পক্ষের সাতজন রয়েছেন। তাদের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম খান বলেন, “এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মাঝেমধ্যেই এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।”
নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানান, শুরুতে পুলিশ কম থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এনে লাঠিচার্জের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাস্থল থেকে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।








