ভোট শুরুর পরই উত্তাপ, বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ সামনে আসে।
বিজ্ঞাপন
জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘সূক্ষ্ম কারচুপি’ বা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তোলেন।
সকালে তাতিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, তার সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের বিভিন্নভাবে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
বিজ্ঞাপন
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। রূপারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে এবং সুষ্ঠুভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে। তার অভিযোগ, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তার কাছে আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। প্রায় ৪ লাখ ১৩ হাজারের বেশি ভোটারের জন্য ১২৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভোটগ্রহণের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটাররা কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন। তবে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের কারণে নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








