Logo

ঝিকরগাছায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ঋণ বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

profile picture
বিশেষ প্রতিবেদক
ঝিকরগাছা, যশোর
১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২১:৫৩
ঝিকরগাছায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ঋণ বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
ছবি: প্রতিনিধি

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের (শাখা কোড: ৪৬০৫) ঋণ বিতরণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক সালমা খাতুন এবং মাঠকর্মী তাপস পাল।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকৃত দরিদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আত্মীয়স্বজন ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। অথচ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক উন্নয়ন।

তথ্য অনুযায়ী, সালমা খাতুন ২২ অক্টোবর ২০১৮ থেকে ২৭ নভেম্বর ২০২২ পর্যন্ত ঝিকরগাছা শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। তার সময়কালে ১৯ জুন ২০২২ তারিখে তার আত্মীয় নাসিমা বেগম ও রাবেয়া বেগমের নামে ১ লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৪ আগস্ট ২০২২ তারিখে মোজাম্মেল বিশ্বাস, জান্নাতুল নাহার মোহনা এবং ছবিরন বেগমের নামে যথাক্রমে ১ লাখ, ১ লাখ এবং ৫০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। দুই ধাপে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ প্রদান করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, রাবেয়া বেগম ও তার মেয়ে ছবিরন বেগম অফিসে উপস্থিত না হয়েই তাদের নামে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অর্থ পরে সালমা খাতুনের আত্মীয় মোজাম্মেল বিশ্বাসের কাছে চলে যায়। এছাড়া জান্নাতুল নাহার মোহনা ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। সংবাদকর্মীদের অনুসন্ধানের পর গত ১৫ এপ্রিল রাবেয়া বেগম ও তার মেয়ের ঋণ পরিশোধ করা হলেও বাকি তিনজনের ঋণ এখনো বকেয়া রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকের অজান্তে তাদের নামে ঋণ তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাধারণ মানুষ ঋণ নিলে কঠোর জবাবদিহিতার মুখে পড়ে, অথচ এখানে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

রাবেয়া বেগম বলেন, “আমি কোনো লোন নেয়নি। কে কী করেছে আমি জানি না। আমি ওই অফিসেই কোনোদিন যাইনি।” তবে পরবর্তীতে তিনি বলেন, “আমাদের সাথে তাদের রাগারাগি ছিল, তাই এমন বলেছিলাম। এখন লোন শোধ করে দিয়েছি।”

মোজাম্মেল বিশ্বাস বলেন, “আমি লোন নিয়েছি। আমিই শোধ করবো। কে তথ্য দিয়েছে সেটা বলেন, আমি দেখছি।”

মাঠকর্মী তাপস পাল বলেন, “আমাদের সালমা ম্যাডাম ছিলেন। উনার আত্মীয় দোলাভাই আপন। বস যদি বলে, তাহলে তো দিতে হয়।” রাবেয়ার উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, “তারা অবশ্যই এসেছিল।”

বিজ্ঞাপন

সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক সালমা খাতুন বলেন, “লোন দিয়েছি। লোন কি পরিশোধ হবে না? তারা অস্বীকার করছে না। অডিট টিম আছে, তারা ব্যবস্থা নেবে।” আত্মীয়তার বিষয়ে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, তারা আমার আত্মীয়। তবে অফিসিয়ালি তারা সমিতির গ্রাহক। এক পরিবারে একাধিক ঋণ দেওয়ার কোনো বাধা তখন ছিল না।” তিনি আরও বলেন, “রাবেয়া ও তার মেয়ের বিষয়টি পারিবারিক সমস্যা। তারা একসাথে থাকাকালীন ঋণ নিয়েছিল, পরে আলাদা হয়ে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এখন আমার দোলাভাই বলছে, সে ঋণ পরিশোধ করবে।”

বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে এক পরিবারে একজনের বেশি ঋণ দেওয়ার নিয়ম নেই এবং এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বকেয়া ঋণ আদায় করা। পাঁচজনের মধ্যে দুইজন ঋণ পরিশোধ করেছেন, বাকি তিনজনের ঋণ এখনও আদায়যোগ্য রয়েছে।

জেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সিনিয়র অফিসার মো. জাকির হুসাইন জানান, বিষয়টি তাদের জানা আছে এবং দ্রুত ঋণ পরিশোধ না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জেবি/এসআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD