Logo

কুষ্টিয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু, দুই চিকিৎসক পুলিশ হেফাজতে

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া
২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:০০
কুষ্টিয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু, দুই চিকিৎসক পুলিশ হেফাজতে
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের পর তাসনিয়া আফরিন (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত আটটার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একতা প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

নিহত তাসনিয়া আফরিন কুমারখালী উপজেলার সানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে। ঘটনার পর অস্ত্রোপচারের সময় উপস্থিত দুই চিকিৎসককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা করা হয়নি।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার–পাঁচ দিন আগে বাড়ির সিঁড়ি থেকে পড়ে তাসনিয়ার বাঁ হাত ভেঙে যায়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার বিকেলে তাকে কুষ্টিয়া শহরের একতা প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

অস্ত্রোপচারের সময় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাদী এবং অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের জন্য তাহেরুল আল আমীন উপস্থিত ছিলেন। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে অপারেশন থিয়েটারের বাইরে থাকা স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। পরে স্থানীয় লোকজনও এ ঘটনায় যুক্ত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেয়। রাত ১১টা পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করেন।

শিশুটির খালু আতিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, “অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে ভুল বা চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তাসনিয়ার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, অ্যানেসথেটিস্ট তাহেরুল আল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, “শিশুটির প্রি-অপারেটিভ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর সে মারা যায়। সম্ভবত হার্ট অ্যাটাকের কারণে এমনটি হয়েছে।”

একতা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, “অচেতন করার পরপরই শিশুটির মৃত্যু হয়। অ্যানেসথেসিয়া কীভাবে প্রয়োগ হয়েছে, তা চিকিৎসকরাই ভালো বলতে পারবেন।”

বিজ্ঞাপন

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (Sudden Cardiac Arrest) হতে পারে। আবার নিম্নমানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যানেসথেসিয়ার কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এস এম কামাল হোসেন বলেন, “ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেও এ ধরনের অভিযোগে তিনটি ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, “এখনো পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়নি। ঘটনার রাতেই দুই চিকিৎসককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা না থাকায় এখনও সুরতহাল রিপোর্ট করা সম্ভব হয়নি।”

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD