রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যের দখলে ৩০০ একর জমি, বন্ধ চাষাবাদ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে উৎপন্ন বর্জ্যের কারণে স্থানীয়দের প্রায় ৩০০ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা ও দূষণের কারণে এসব জমির বড় অংশ এখন কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, ফলে চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১১ মে) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বক্তারা। “কক্সবাজারে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, স্থানীয় সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি” শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম।
বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে। তাদের অভিযোগ, ক্যাম্প এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না হওয়ায় আশপাশের কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে এবং স্থানীয় কৃষকরা উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সীমান্ত এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গাদের অবাধ যাতায়াত, ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব পরিস্থিতি স্থানীয়দের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি করছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
তারা বলেন, রোহিঙ্গা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো উন্নয়ন বা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা না করার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী রেজাউল করিম, সিসিএনএফ’র সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম এবং কুতুপালং ইউনিয়নের সদস্য হেলাল উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
বিজ্ঞাপন
বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিভিন্ন তহবিল ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ কম থাকায় বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন এনজিওতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, জেলার বাইরের লোক নিয়োগের প্রবণতা কমিয়ে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় গঠিত আরসিটি কাঠামোয় স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়। তাদের মতে, স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষায় জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে কার্যকর একটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়, যা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করবে এবং স্থানীয় জনগণকে বাস্তব তথ্য জানাবে।
এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে স্থানীয় এনজিও, জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানানো হয়। স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করারও দাবি তোলেন বক্তারা।
বিজ্ঞাপন
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় হোস্ট কমিউনিটির জন্য বরাদ্দ থাকা ২৫ শতাংশ সহায়তা যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং কারা সেই সুবিধা পাচ্ছে—এসব তথ্য প্রকাশ করারও দাবি জানানো হয়।








