নওগাঁয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, শ্রমিকদের মাঝে খাবার বিতরণ

তীব্র গরম আর অগ্নিঝরা বৈশাখের দাবদাহ উপেক্ষা করে নওগাঁর মাঠজুড়ে চলছে ইরি-বোরো ধান কাটার ব্যস্ততা। প্রখর রোদের মধ্যে ঘাম ঝরিয়ে দিনভর ফসল ঘরে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের নিরলি-বনগ্রাম মাঠ এলাকায় ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষক ও ধানকাটা শ্রমিকদের মাঝে খাবার স্যালাইন, রুটি ও ঠান্ডা পানি বিতরণের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১১ মে) দুপুরে কোলা ইউনিয়ন উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে নিরলি-বনগ্রাম মাঠ এলাকায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে মাঠে কর্মরত প্রায় শতাধিক প্রান্তিক কৃষক ও খেটে খাওয়া শ্রমিকের হাতে খাবার স্যালাইন, রুটি ও ঠান্ডা পানি তুলে দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল নবী সান্ডু।
আরও পড়ুন: বাউফলে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেফতার ১
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম, বিএনপি নেতা আসিক ইকবাল অথেলো, সাইদুল ইসলাম পিন্টু, কলামিস্ট তাহির ইবনে মোহাম্মদ নয়ন, হাসু, ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, কোলা ইউনিয়ন উন্নয়ন ফোরামের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিজ্ঞাপন

মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে রাস্তার পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, শুধু কৃষকদের কষ্ট লাঘব নয়, পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল নবী সান্ডু বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছেন কৃষক। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে যারা মাঠে পরিশ্রম করছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে পরিবেশ রক্ষায় বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তাই মানবিক সহায়তার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আয়োজকদের ভাষ্য, চলমান তাপপ্রবাহে মাঠে কাজ করা কৃষক ও শ্রমিকরা নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। অতিরিক্ত গরমে পানিশূন্যতা ও ক্লান্তি দূর করতে তাদের মাঝে স্যালাইন, খাবার ও ঠান্ডা পানি বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের মতো কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা হবে।
তারা আরও জানান, ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের সামাজিক, মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।








