Logo

মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে শিশু রেশমি, চার দিনেও ফেরেনি জ্ঞান

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
১২ মে, ২০২৬, ১৭:৪৩
মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে শিশু রেশমি, চার দিনেও ফেরেনি জ্ঞান
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ এলাকায় সন্ত্রাসী দু’গ্রুপের গোলাগুলির মধ্যে গুলিবিদ্ধ হওয়া ১১ বছরের শিশু রেশমি আক্তারের অবস্থার এখনো কোনো উন্নতি হয়নি। চার দিন পেরিয়ে গেলেও তার জ্ঞান ফেরেনি। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসকদের ভাষ্য, রেশমির বাঁ চোখ দিয়ে প্রবেশ করা গুলি তার মস্তিষ্কের ভেতরে গুরুতর ক্ষতি করেছে। গুলিটি এমন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আটকে আছে যে, অস্ত্রোপচার করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে মেডিকেল বোর্ড অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিশুটির শারীরিক অবস্থার কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। চিকিৎসকদের মতে, তার জীবন এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রেশমি আক্তার বায়েজিদ থানার রৌফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলি এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ আহমেদের সন্তান। তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে সে পরিবারের সবচেয়ে ছোট। গত বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে মায়ের জন্য পান কিনতে বের হলে হঠাৎ গোলাগুলির মধ্যে পড়ে যায় সে। ওই ঘটনায় হাসান রাজু নামে ২৪ বছর বয়সী এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছোট বোনের পাশে টানা চার দিন ধরে অবস্থান করছেন বড় ভাই ফয়সাল আহমেদ। বোনের কোনো সাড়া না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের কান্না আর উৎকণ্ঠায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

রেশমির বাবা রিয়াজ আহমেদও মেয়ের অবস্থা নিয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, কয়েক দিন আগেও যে মেয়ে তাকে ‘বাবা’ বলে ডাকছিল, আজ সে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এই ঘটনার বিচার কোথায় চাইবেন, সেটিই এখন তার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন

মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, গঠিত মেডিকেল বোর্ড শিশুটিকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. বাকি বিল্লাহ বলেন, গুলির আঘাতে রেশমির মস্তিষ্ক প্রায় কোনো সাড়া দিচ্ছে না এবং তার রক্তচাপও অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপরতা শুরু করেছে। বায়েজিদ বোস্তামী থানা সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে নিরীহ এক শিশুর এমন সংকটাপন্ন অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD