Logo

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অঝোরে কাঁদলেন সাবেক এমপি

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও
৩০ মে, ২০২৬, ১৮:৪৫
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অঝোরে কাঁদলেন সাবেক এমপি
ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুর কারাগার থেকে সাত ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ দবিরুল ইসলামের নামাজে জানাজায় অংশ নিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন। বাবার মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় তাকে। হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৩০ মে) সকালে দিনাজপুর কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় বাবার মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়ে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় তাকে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ারও চেষ্টা করেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রয়াত দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশগ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবারের মতো কিছু সময় কাটানোর সুযোগ করে দিতেই তাকে সাত ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দবিরুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

শনিবার (৩০ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং হাজারো সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।

সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন বলেন, বাবাকে খুব ভালোবাসতাম। শেষ সময়ে তার কাছে থাকতে পারলাম না। আমাকে নিয়ে চেন্নাই চিকিৎসার জন্য যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার, এরপরে হজে। জেলে থাকার কারণে কোনোকিছু করতে পারলাম না। এই কষ্ট সারাজীবন আমাকে কাঁদাবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, আমার বাবা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় ৩৫ বছর তিনি এ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তার যদি কোনো ভুলত্রুটি থেকে থাকে, আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। মানুষের ভালোবাসাই ছিল বাবার সবচেয়ে বড় শক্তি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে ছিলেন। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন, মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-২ আসনের অন্যতম পরিচিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি তিনবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিরল রেকর্ড গড়েন। স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনকল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয়রা জানান।

বিজ্ঞাপন

জানাজায় অংশ নিতে আসা অনেকেই বলেন, একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জননেতার বিদায়ে ঠাকুরগাঁও একটি অভিভাবকসুলভ নেতৃত্বকে হারিয়েছে। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু কমিউনিস্ট পার্টির মাধ্যমে হলেও পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন।

তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে এবং পরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি অনন্য নজির স্থাপন করেন।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় সংসদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন দীর্ঘদিন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD