ডিমলায় লাম্পি রোগের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, এক মাসে ৮০ গরুর মৃত্যু

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাবে খামারিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত এক মাসে এ রোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৭০ থেকে ৮০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে কৃষক ও খামারিদের প্রায় অর্ধকোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিমলা উপজেলায় গবাদিপশুর সংখ্যা দুই লক্ষাধিক এবং খামারির সংখ্যা ১৪ হাজারের বেশি। স্থানীয় সূত্র ও খামারিদের দাবি, ইতোমধ্যে দুই হাজারেরও বেশি গরু লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় রোগ শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, লাম্পি স্কিন ডিজিজ একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা গরুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হলেও মানুষের মধ্যে ছড়ায় না। আক্রান্ত গরুর শরীরে জ্বর, ক্ষুধামন্দা, শরীর ব্যথা, মুখ ও নাক দিয়ে লালা পড়া, পা ফুলে যাওয়া এবং শরীরজুড়ে গুটি বা নডিউল দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনি আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা গেছে, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে রোগটির প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। এছাড়া গয়াবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, পূর্ব ছাতনাই, বালাপাড়া, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানি, নাউতারা ও ডিমলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক খামারে একাধিক গরু আক্রান্ত হওয়ায় খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
গয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাবুপাড়া গ্রামের খামারি মানিকবাবু জানান, তার ৯টি গরুর মধ্যে ৩টি আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিদিন চিকিৎসা বাবদ দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
একই এলাকার লুৎফর রহমান বলেন, লাম্পি রোগে তার গর্ভবতী গরুটি মারা গেছে, যা তার জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নাউতারা ইউনিয়নের আকাশকুড়ি গ্রামের হযরত আলী জানান, সপ্তাহখানেক আগে প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় এ রোগে মারা যাওয়ার পর আতঙ্কে অন্য গরুটিও বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি।
খামারিদের অভিযোগ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় টিকা ও ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাইরে থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে এবং চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ডিমলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, “লাম্পি রোগে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম হলেও আক্রান্ত গরু মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৫৫ ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ পাওয়া গেছে, যা উপজেলার মোট গবাদিপশুর মাত্র ৪ শতাংশের জন্য যথেষ্ট। এখনও প্রায় ৯০ শতাংশ গবাদিপশু ভ্যাকসিনের আওতার বাইরে রয়েছে।”
তিনি খামারিদের আক্রান্ত গরু আলাদা রাখা, গোয়ালঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মশা-মাছি নিয়ন্ত্রণ করা এবং দ্রুত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।








