ধর্মপাশার বালিজুড়ি ট্রলার ট্র্যাজেডির ১৬ বছর আজ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ইতিহাসে অন্যতম মর্মান্তিক নৌদুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত বালিজুড়ি ট্রলার ট্র্যাজেডির ১৬ বছর পূর্ণ হলো আজ সোমবার (৮ জুন)। ২০১০ সালের এই দিনে কালবৈশাখী ঝড়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৬ জন প্রাণ হারান।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নিহতদের স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় মানুষের কাছে সেই শোকাবহ স্মৃতি আজও বেদনাদায়ক হয়ে আছে।
জানা যায়, ২০১০ সালের ৮ জুন সকালে উপজেলার বালিজুড়ি গ্রাম থেকে বাদশাগঞ্জের উদ্দেশ্যে একটি যাত্রীবাহী ট্রলার যাত্রা শুরু করে। ট্রলারটিতে বিভিন্ন বয়সী যাত্রীর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিলেন। সেলবরষ ও পাইকুরাটি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী শৈলচাপড়া হাওরের কাছে পৌঁছালে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে গেলে ১৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
বিজ্ঞাপন
নিহতদের মধ্যে ছিলেন বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনজন এবং বাদশাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষার্থী। এছাড়া বালিজুড়ি গ্রামের তিনজন নারী ও পাঁচজন শিশুও ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। নিহত শিক্ষার্থীদের সবাই পাইকুরাটি ইউনিয়নের বালিজুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
প্রতি বছর এই দিনটি ঘিরে বালিজুড়ি গ্রাম এবং বাদশাগঞ্জের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেমে আসে শোকের আবহ। নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান জানান, নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এবং স্থানীয় তিনটি মসজিদে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ট্রলারডুবির ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও বালিজুড়ি গ্রামের সঙ্গে নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে চলাচল করতে হয়। আর শুষ্ক মৌসুমে দীর্ঘ পথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।
স্থানীয়দের মতে, বালিজুড়ি ট্র্যাজেডি শুধু একটি নৌদুর্ঘটনা নয়; এটি হাওরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকটের প্রতীক। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত স্থায়ী ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
এলাকাবাসী আরও জানান, প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর আগে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে স্থানীয় সরকার কর্মসূচির আওতায় একটি ইঞ্জিনচালিত স্টিলবডি নৌকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেটি পরে চোরাচালানের কাজে ব্যবহারের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিম্মায় চলে যায়। বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
১৬ বছর পরও বালিজুড়ি ট্রলার ট্র্যাজেডির স্মৃতি ধর্মপাশার মানুষের মনে গভীর ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে। নিহতদের স্বজনরা আজও সেই দিনের বিভীষিকা ভুলতে পারেননি।








