হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যু, সিসিটিভিতে চাঞ্চল্যকর মোড়

বগুড়া শহরের একটি আবাসিক হোটেলে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বিপুল চন্দ্র পালের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার তদন্তে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে একজন নারীর সংশ্লিষ্টতার সূত্র পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট নারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এর আগে শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকার সেঞ্চুরি হোটেলের ৬১০ নম্বর কক্ষ থেকে বিপুল চন্দ্র পালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, ঘুমের ওষুধ, কোমলপানীয় এবং পানির বোতল জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত বিপুল চন্দ্র পাল বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ছিলেন। তিনি টানা দুইবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বাড়ি এরুলিয়া পালপাড়া এলাকায়। তিনি প্রয়াত জিতেন্দ্র নাথ পালের ছেলে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও হোটেল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত প্রায় ৯টার দিকে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে প্রবেশ করেন বিপুল চন্দ্র পাল। পরে তিনি সেখানে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরদিন নির্ধারিত সময় পার হলেও কক্ষের ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে।
খবর পেয়ে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি ও সদর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের উপস্থিতিতে বিকল্প চাবির মাধ্যমে কক্ষটি খোলা হলে বিছানার ওপর অচেতন অবস্থায় বিপুল চন্দ্র পালকে পাওয়া যায়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, বিপুল চন্দ্র পালের সঙ্গে এক নারী হোটেলে প্রবেশ করেছিলেন। তবে মরদেহ উদ্ধারের আগেই ওই নারী হোটেল ত্যাগ করেন। এরপর তদন্তের সূত্র ধরে দিনাজপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চৌপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোছা. মুর্শেদাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার হত্যার অভিযোগ তুলেছে। বিপুল চন্দ্র পালের স্ত্রী লিপি রানী পাল দাবি করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, সারিয়াকান্দির রক্সি নামের এক ব্যক্তি তাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
অন্যদিকে নিহতের মেয়ে হোটেল কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক ওষুধ উদ্ধারের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তার অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার উদ্দেশ্যে এমন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সেঞ্চুরি মোটেলের কর্মচারী এনামুল হক জানান, রাত্রিযাপনের জন্য কক্ষটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। পরদিন দুপুর পর্যন্ত ভেতর থেকে কোনো সাড়া না মেলায় পুলিশকে জানানো হয়।
এ বিষয়ে হোটেলটির মালিক আবদুল হামিদ মিটুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী বলেন, ঘটনার সময় কক্ষে উপস্থিত থাকা নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।








