Logo

বাকেরগঞ্জে শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
বাকেরগঞ্জ, বরিশাল
২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৭:৫২
বাকেরগঞ্জে শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ
ছবি: প্রতিনিধি

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনাকে ঘিরে গত দুই দিন ধরে চলছে পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এক পক্ষের বিরুদ্ধে অন্য পক্ষের নানা অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, দুধল ইউনিয়নের এক গ্রাম পুলিশ সদস্য দুলাল চৌকিদার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে সড়কের পাশ থেকে নির্জন স্থানে নিয়ে বলাৎকার করেছেন। গত রবিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে বলে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দুধল ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. খালেকুজ্জামান বাহাদুর অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ সদস্যের পক্ষ নিয়েছেন এবং তার লোকজন অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা বাহাদুর।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এদিকে অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুবদলের আহ্বায়ক বাহাদুরকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ এনে তার অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের একাংশ পাল্টা কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা দুধল গ্রামের বাঁধের হাট বাজারে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে শিশু বলাৎকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা বাহাদুরকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ঘটনার দিন তিনি এলাকায় ছিলেন না এবং ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ ওঠার পর থেকেই গ্রাম পুলিশ সদস্য দুলাল চৌকিদার আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

যুবদলের আহ্বায়ক মো. খালেকুজ্জামান বাহাদুর বলেন, শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। ঘটনার সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া উচিত। তবে ঘটনার দিন তিনি এলাকায় ছিলেন না এবং কাউকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতাও করেননি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নেতৃত্বে তাকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার রাজনৈতিক ও সামাজিক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল এসব করছে বলে দাবি করেন তিনি। অপপ্রচার বন্ধ না হলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, শিশু বলাৎকারের মতো স্পর্শকাতর একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধ প্রকাশ্যে আসায় প্রকৃত ঘটনা আড়ালে পড়ে যেতে পারে। তাই রাজনৈতিক বিরোধের বাইরে রেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন জানান, শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যাচাই ছাড়া কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচার না ছড়ানোর জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD