Logo

টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর সদর, গাজীপুর
২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৬:৩১
টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ, বাড়ছে জনদুর্ভোগ
ছবি: প্রতিনিধি

গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সড়কের পাশে গড়ে ওঠা এসব ময়লার ভাগাড় থেকে ছড়ানো তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। একই সঙ্গে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পড়ে থাকায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল, বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বিভিন্ন অংশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলের সময় নাক-মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হচ্ছে।

শহীদ ময়েজউদ্দিন সেতু পার হয়ে টঙ্গী-কালীগঞ্জ বাইপাস সড়কটি নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকায় গিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়কটির গুরুত্ব অনেক। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করলেও সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, মাজুখান পশ্চিমপাড়া অতিক্রম করার পর নিমতলী এলাকার ময়লার ভাগাড়, সিলমুনে আকিজ বেকারির সামনের অংশ এবং স্টেশন রোডে চম্পাকলি সিনেমা হলের বিপরীত পাশে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থানে বর্জ্য জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো এলাকায়। ফলে পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

মাজুখান এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সড়কের পাশে ময়লা জমে থাকায় শুধু দুর্গন্ধই নয়, সামান্য বৃষ্টি হলেই ওই এলাকায় পানি জমে যায়। ময়লার সঙ্গে মিশে যাওয়া নোংরা পানি সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল খান বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় এই এলাকায় অবস্থান করলেই সমস্যার ভয়াবহতা বোঝা যায়। দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় হাঁটাচলা করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগের।

বিজ্ঞাপন

তাইজুল ইসলাম কাকন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশে ময়লা ফেলতে ফেলতে সেখানে স্থায়ী ভাগাড়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু সমস্যাটি সমাধানে এখন পর্যন্ত কার্যকর ও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

অটোরিকশাচালক জাকির হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলে ময়লার পাশে পানি জমে যায়। তখন দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়। এসব স্থানে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

পোশাককর্মী আয়েশা বেগম বলেন, প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতের সময় তাকে ময়লার স্তূপের পাশ দিয়ে যেতে হয়। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে অনেক সময় খাবারের প্রতিও অনীহা তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

নরসিংদীগামী পিপিএল পরিবহনের চালক আকবর আলী বলেন, যানজটের কারণে গাড়ি সড়কে আটকে থাকলে ময়লার দুর্গন্ধে যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে গরমের সময়ে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মিরের বাজারের ব্যবসায়ী ছায়েম মিয়া বলেন, প্রতিদিন ব্যবসার কাজে টঙ্গীতে যাতায়াত করতে হয়। সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লার দুর্গন্ধের কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত এসব ময়লা অপসারণ করে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

বিডি ক্লিনের উপদেষ্টা কালিমুল্লাহ ইকবাল বলেন, সড়কের পাশে ময়লা জমে থাকায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনদুর্ভোগও বাড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি দ্রুত ময়লা অপসারণের পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং সড়কের পাশে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, সড়কের পাশ থেকে নিয়মিত ময়লা অপসারণের কাজ করা হচ্ছে। বর্জ্য ফেলার জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণে জমি খোঁজা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD