পচা আমের দুর্গন্ধে নাকাল সাপাহার বাজার, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

দেশের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদন ও বিপণন কেন্দ্র নওগাঁর সাপাহার আম বাজারে পচা ও নষ্ট আমের স্তুপ এখন জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পচা আম থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ।
বিজ্ঞাপন
এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও তৈরি হয়েছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন আমচাষি, ব্যবসায়ী, পথচারী এবং বাজারসংলগ্ন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও খোলা স্থানে স্তূপ করে ফেলে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ পচা আম। সময়মতো এসব বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। বাজারে আগত মানুষকে নাক চেপে চলাচল করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি পচা আমের স্তূপে মাছি, মশা ও বিভিন্ন রোগবাহী পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়েছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আম বিক্রি করতে আসা চাষি মোকলেছুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ভ্যানভর্তি আম নিয়ে বাজারে এসে দীর্ঘ সময় রাস্তার পাশে অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু পচা আমের দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক ক্রেতাও বাজারের ভেতরে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন, ফলে বিক্রিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পথচারী ইব্রাহিম হোসেন বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে নাক চেপে না ধরলে চলাচল করাই কষ্টকর। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়।
আরেক পথচারী মাসুদ রানা বলেন, দেশের অন্যতম বড় আমের বাজারের প্রবেশমুখেই যদি পচা আমের স্তূপ পড়ে থাকে, তাহলে বাইরের জেলা থেকে আসা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছে বাজার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিজ্ঞাপন
এদিকে বাজারসংলগ্ন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরাও চরম ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী রুমাল বা মাস্ক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। দীর্ঘদিন এভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলাচল করলে শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সাপাহার আম আড়ৎ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন, আমের মৌসুমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আম বাজারে আসে। স্বাভাবিকভাবেই কিছু আম নষ্ট হয়। তবে পচা আম দ্রুত অপসারণ এবং বাজার পরিচ্ছন্ন রাখতে আড়ৎ সমিতি কাজ করছে। স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা রিয়াজ বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বাজারে জমে থাকা পচা আম দ্রুত অপসারণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই আম বাজারে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে শুধু জনস্বাস্থ্যই নয়, সাপাহারের ঐতিহ্যবাহী আম বাজারের সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমের মৌসুমজুড়ে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু এবং বাজার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।








