বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় শখের বাইক বিক্রি, প্রশংসায় চেয়ারম্যান

চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক।
বিজ্ঞাপন
নিজের শখের মোটরসাইকেল বিক্রি করে পাওয়া ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ব্যক্তিগত মুদি দোকানের খাদ্যসামগ্রীসহ তিন লাখ টাকারও বেশি সহায়তা বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে বিতরণ করেছেন তিনি। তার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্যা শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কারণে নিজের মোটরসাইকেল বিক্রি করেছিলেন মো. আজিজুল হক। তবে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বড়হাতিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পর অসহায় মানুষের দুর্দশা দেখে তিনি সেই অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না করে দুর্গতদের সহায়তায় ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বন্যার শুরু থেকেই তিনি নিজ উদ্যোগে দুর্গম এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে কাজ করেন। সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর আগেই রাতের অন্ধকারে পানি অতিক্রম করে বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া অনেক বন্যার্ত মানুষ তার বাড়িতে আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়েছেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তার মানবিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকে তার এই উদ্যোগকে দুর্যোগকালে জনপ্রতিনিধির দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এনসিপির লোহাগাড়া উপজেলা আহ্বায়ক নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "বন্যার শুরু থেকে এই মানুষটা বড়হাতিয়াবাসীর জন্য যথেষ্ট করেছেন। স্যালুট আজিজ ভাই। এভাবেই মানুষের পাশে থাকুন। এর প্রতিদান মহান আল্লাহ দেবেন।"
বিজ্ঞাপন
মো. রিদোয়ান নামে একজন মন্তব্য করেন, এমন মানবিক চেয়ারম্যান প্রতিটি ইউনিয়নে দরকার।" আর তছলিম উদ্দিন নামে আরেকজন লেখেন, আজিজ ভাই একজন সমাজসেবক। বড়হাতিয়ার জন্য তিনি অতুলনীয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক বলেন, ব্যক্তিগত প্রয়োজনেই মোটরসাইকেলটি বিক্রি করেছিলেন। তবে বন্যায় মানুষের সীমাহীন কষ্ট ও দুর্ভোগ দেখে সেই অর্থ নিজের জন্য ব্যয় করার ইচ্ছা আর হয়নি। তাই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি পুরো অর্থ দুর্গত মানুষের সহায়তায় ব্যয় করেছেন।
তিনি জানান, মোটরসাইকেল বিক্রি করে পাওয়া ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা খুব দ্রুতই ত্রাণ কার্যক্রমে শেষ হয়ে যায়। এরপর নিজের মুদি দোকান থেকে খাদ্যসামগ্রীও বিতরণ করেন। এসব কাজে তার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই; মানুষের উপকার করতে পারলেই তিনি আত্মতৃপ্তি অনুভব করেন।
বিজ্ঞাপন
মো. আজিজুল হক আরও বলেন, ২০২৪ সালে ফেনীর ভয়াবহ বন্যার সময়ও বড়হাতিয়াবাসীর সহযোগিতায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছিল। তার বিশ্বাস, মানুষের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এবং এটিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।








