প্রিয় দলের রঙে রাঙাতে প্রস্তুত কটিয়াদী, বাড়ছে পতাকা-জার্সির বিক্রি

বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আবহ। দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে অনেকেই কিনছেন বিভিন্ন দেশের পতাকা ও জার্সি।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে কটিয়াদী বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, খেলাধুলার সামগ্রীর দোকানগুলোতে সাজানো হয়েছে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকা ও জার্সি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স, জার্মানি এবং সৌদি আরবের পতাকা ও জার্সির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। দোকানের সামনে রঙিন পতাকা টাঙিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগেই বিক্রি শুরু হলেও এখন চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন মাপ ও মানের পতাকার পাশাপাশি নানা ডিজাইনের জার্সি বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে দামেও রয়েছে পার্থক্য।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী ইব্রাহিম বলেন, বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, পতাকা ও জার্সির বিক্রিও তত বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে প্রিয় দলের জার্সি কেনার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। টুর্নামেন্ট শুরু হলে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।
বিশ্বকাপকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রিয় দলের পতাকা টাঙানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে সমর্থকদের তর্ক-বিতর্ক, আলোচনা ও প্রচারণা।
কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে ভ্যানে করে পতাকা ও জার্সি বিক্রি করছেন আবদুল কাদির। প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্বকাপ মৌসুমে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনি। তাঁর ভাষ্য, “বিশ্বকাপ এলেই এই ব্যবসায় নামি। এবারও ভালো সাড়া পাচ্ছি।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, তিন ফুটের পতাকা ১০০ টাকা, পাঁচ ফুটের পতাকা ২৫০ টাকা এবং ১০ ফুটের পতাকা ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এছাড়া পাঁচ ফুটের বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ টাকায়।
বিক্রির অবস্থা সম্পর্কে আবদুল কাদির বলেন, ঈদের আগে বেচাকেনা বেশ ভালো ছিল। অনেক অভিভাবক সন্তানদের জন্য জার্সি ও পতাকা কিনে নিয়েছেন। এবার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকার চাহিদা বেশি। তবে আগের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পতাকা সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
এদিকে জার্সিতে নাম লেখার কাজও জমে উঠেছে। এ কাজের সঙ্গে যুক্ত রিয়াদুল ইসলাম সোহাগ জানান, সাধারণ জার্সিতে নাম লিখতে ৫০ টাকা, স্টিকার দিয়ে নাম লিখতে ১০০ টাকা এবং উন্নত মানের জার্সিতে নাম লিখতে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। তাঁর মতে, সবচেয়ে বেশি নাম লেখা হচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে। এরপর রয়েছে ব্রাজিল ও পর্তুগালের অবস্থান।
বোয়ালিয়া এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন মাহিন ৮৫০ টাকা দিয়ে আর্জেন্টিনার একটি জার্সি কিনেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সব পণ্যের দামই কিছুটা বেশি। জার্সির দাম মেনে নেওয়া গেলেও নাম লেখানোর খরচটা একটু বেশি মনে হয়েছে।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কটিয়াদীর বাজারে এখন ফুটবলপ্রেমীদের সরব উপস্থিতি। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পতাকা ও জার্সির বিক্রি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।








