Logo

রহস্যে ঘেরা উত্তপ্ত মাটি, এবার মাঠে নামছে পেট্রোবাংলার দল

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
শরীয়তপুর
৮ জুন, ২০২৬, ১৩:১৪
রহস্যে ঘেরা উত্তপ্ত মাটি, এবার মাঠে নামছে পেট্রোবাংলার দল
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে মাটির নিচে অস্বাভাবিক তাপ সৃষ্টি এবং ধোঁয়া বের হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে রহস্য আরও গভীর হচ্ছে। টানা তিন দিন ধরে ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষের নজর কাড়লেও এখন পর্যন্ত এর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে তাপের উৎস অনুসন্ধানে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটির নিচের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অস্বাভাবিক তাপের পেছনে কোনো গ্যাস নির্গমন, রাসায়নিক বিক্রিয়া অথবা ভূগর্ভস্থ অন্য কোনো প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করবেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন শুক্রবার থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান প্রবেশপথের পাশে প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে মাটির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই স্থানে হাত রাখলেই তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। পরে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছাকাছি অংশে মাটি খুঁড়ে দেখার চেষ্টা করলে সেখান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এতে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার খবর দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষজন হাসপাতালে ভিড় করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। উত্তপ্ত স্থানটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

শনিবারও গর্ত খননের সময় মাটির নিচ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা একাধিকবার পানি প্রয়োগ করে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা চালান। তবে সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। পানি প্রয়োগের পরও মাটির তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে না কমায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্য আরও বাড়তে থাকে।

রোববার ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে খননকাজের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে একটি এক্সকাভেটর বা ভেকু আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুযায়ী খননকাজ পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুল রহমান বলেন, হাসপাতাল চত্বরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি শুক্রবার থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, রোগী, স্বজন ও হাসপাতালসেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা এবিএম বাসার বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। উত্তপ্ত মাটিতে কয়েক দফা পানি প্রয়োগ করা হলেও তাপমাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞ দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী খননসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকাটি সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের অনেকেই ধারণা করছেন, মাটির নিচে কোনো গ্যাসের উপস্থিতি কিংবা অস্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশেষজ্ঞদের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুমানভিত্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তাই এখন সবার নজর পেট্রোবাংলার তদন্ত ও পর্যবেক্ষণের দিকে, যা হয়তো কয়েক দিনের রহস্যের জট খুলে দিতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD