Logo

পাংশায় খাল পুনঃখনন কাজ ৯০ শতাংশ শেষ, আশার আলো দেখছেন কৃষকরা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
পাংশা, রাজবাড়ী
৮ জুন, ২০২৬, ১৬:২৯
পাংশায় খাল পুনঃখনন কাজ ৯০ শতাংশ শেষ, আশার আলো দেখছেন কৃষকরা
ছবি: প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় ১৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টদের দাবি, কাজ শেষ হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যশাই ইউনিয়নের ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢেঁকিপাড়া খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৯২৭ টাকা। অন্যদিকে পাট্টা ইউনিয়নের ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আঁধারকোটা খাল পুনঃখননে ব্যয় হচ্ছে ১ কোটি ২ লাখ ২৬ হাজার ৪৪৫ টাকা। প্রকল্প দুটিতে যশাই ইউনিয়নে ৫৩৫ জন এবং পাট্টা ইউনিয়নে ২৩৬ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করছেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে খাল দুটি ভরাট হয়ে থাকায় কৃষি সেচে সমস্যা, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে বলে তারা আশা করছেন।

প্রকল্পের আওতায় খালের দুই পাড়ে তাল, নারিকেল ও মেহগনি গাছ রোপণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি, পাড় সংরক্ষণ এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিকরা প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। এতে স্থানীয় অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে কয়েকজন শ্রমিক বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে পাট মৌসুম চলায় কৃষকরাও প্রকল্পটির সুফল নিয়ে আশাবাদী। তাদের মতে, খালগুলোতে পানি সংরক্ষণ হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া, সেচ কার্যক্রম পরিচালনা এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন সহজ হবে।

যশাই ইউনিয়নের নিভা কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আকবর হোসেন বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পানি পাওয়া যাবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকের খরচ কমবে।

বিজ্ঞাপন

পাট্টা ইউনিয়নের কৃষক রাজু বিশ্বাস বলেন, খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় আগে অনেক জমিতে ঠিকমতো সেচ দেওয়া যেত না। খননকাজ শেষ হলে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

যশাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হোসেন খান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ঘটার পাশাপাশি শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আকিদুল ইসলাম জানান, নিয়মিত তদারকির কারণে কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখেই এগিয়ে চলছে এবং এটি স্থানীয় কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞাপন

পাংশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসেন বলেন, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। এতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও খালের পাড় রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক বলেন, প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ—তিনটি খাতই উপকৃত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পাংশা উপজেলার কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে চলমান বৃহৎ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৩ মে পাংশা উপজেলার পাট্টা ও যশাই ইউনিয়নে এ দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD