জিয়ানগরে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার টগড়া দারুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার এক মুহাদ্দিসের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. কাওসার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদ্রাসার আবাসিক ভবনে অবস্থান করে পাঠদান করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি কয়েকজন আবাসিক ও এতিম শিক্ষার্থীকে রাতে ব্যক্তিগতভাবে পড়াতেন। সেই সময় একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
সম্প্রতি মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘটিত একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে একাধিক অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয় এবং অন্তত দুটি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দাবি করেন, তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তেন এবং বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতেন। ওই সময় একাধিকবার অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে রাখা হয়। পরে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
বিজ্ঞাপন
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. আব্দুল্লাহীল মাহমুদ বলেন, ঘটনা জানার পরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকও স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে অভিযোগ প্রকাশের পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।








