Logo

ইতিহাস নির্মাণের গণ-অভ্যুত্থান দিবস ৫ আগস্ট

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪:০৬
ইতিহাস নির্মাণের গণ-অভ্যুত্থান দিবস ৫ আগস্ট
ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাস বদলে দিয়ে নতুন ইতিহাস নির্মাণের গণ-অভ্যুত্থান দিবস ৫ আগস্ট। ২০২৪ সালের এই দিনে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন ঘটে।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ শাসনামলে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিকভাবেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের বাইরে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল সরকারবিরোধী অবস্থান নেয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ, রক্তক্ষয় ও দেশজুড়ে অস্থিরতার পর শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে এবং দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন। তাঁর পতনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

ছাত্র-জনতা ও মেহনতি মানুষের অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এ বছর সেই ঐতিহাসিক ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটে। ঐতিহাসিক এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের স্মৃতি এখনো বাংলাদেশের মানুষের মনে গভীরভাবে দাগ কেটে আছে।

আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেও পরবর্তী সময়ে দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বাড়তে থাকে—এমন অভিযোগ রয়েছে। ২০০৮ সালের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনগুলো নিয়েও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নানা প্রশ্ন তুলেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন ছিল অনেকটা একতরফা; ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠে। আর ২০২৪ সালের নির্বাচনকে বিরোধী দলগুলো ‘একতরফা’ ও ‘ডামি নির্বাচন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের ভোটাধিকার ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক চলেছে।

বিজ্ঞাপন

দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন, ‘জোরজবরদস্তি করে একটি কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। জনগণের কোনো রায় তারা নেয়নি। ফলে জনগণের সমর্থনও তাদের পেছনে ছিল না। প্রশাসনকে ব্যবহার করে জবরদস্তি ও ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় ছিল।’

দীর্ঘ শাসনামলে আওয়ামী লীগ সরকার শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, বিরোধী মত ও গণমাধ্যমের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল—এমন অভিযোগ বিভিন্ন মহল থেকে এসেছে। বিরোধী মতের অনেক গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া, দখল বা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার বা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সমালোচনামূলক বক্তব্য প্রকাশের কারণে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে।

মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পরবর্তী সময়ে সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো আইন ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ওপর অতিরিক্ত রাজনৈতিক নির্ভরতার ফলে দেশে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। এসব অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র বিরোধ চলেছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন পর্যন্ত সময়টি আমার মতো কোটি মানুষের জন্য ছিল এক দমবন্ধ করা পরিস্থিতির সময়। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সরকারি বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের হুমকির আশঙ্কা যেমন ছিল, তেমনি একজন বাবা হিসেবেও প্রতিটি মুহূর্ত কাটাতে হয়েছে গভীর উৎকণ্ঠায়।

আমার জ্যেষ্ঠ পুত্র মাহিন ও একমাত্র কন্যা মাহিমা—দুজনই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সমর্থনে রাজপথে অবস্থান করছিল। তাদের সহকর্মী রাহুল ও প্রিয়তাসহ বন্ধুদের একটি দলও নিয়মিত আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। রামপুরা থেকে বনশ্রী এলাকায় তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারপন্থী কর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছিল। গুলিবর্ষণ ও হামলায় আহত হচ্ছিল আমার সন্তানের মতো অসংখ্য তরুণ।

একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি একজন বাবা হিসেবে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন থাকতে হয়েছে। তখন পরিস্থিতি এমন ছিল যে, সন্তানদের আন্দোলনে যেতে বাধা দেওয়ার মতো নৈতিক অবস্থানও অনেক বাবা-মায়ের ছিল না। মাহিন ও মাহিমার প্রশ্ন ছিল—‘বাবা, আমাদের ভাই-বোন ও সহযোদ্ধারা রাজপথে, আমরা কীভাবে ঘরে থাকি?’

বিজ্ঞাপন

একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সন্তানদের আন্দোলনের মাঠে যেতে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা আমারও ছিল না। তবে আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে জুলাই-আগস্টের চেতনাকে ব্যবহার করে কোনো ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার প্রয়োজন তারা বোধ করেনি—এটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় সন্তুষ্টির বিষয়।

৪ আগস্ট গভীর রাতে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানির সঙ্গে আমার কথা হয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, সরকারের পতন অনিবার্য এবং এই কর্তৃত্ববাদী সরকার আর বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তিনি কারাবন্দি এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, সিনিয়র সহকারী সদস্যসচিব এ বি এম খালিদ হোসেন এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদাসহ বিরোধী দলের নেতাদের খোঁজখবর নেন।

৫ আগস্ট সকালেও আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হামলার খবর আসছিল। এমন সময় খবর পেলাম, আমার ছেলে ছররা গুলিতে আহত হয়েছে। অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে যখন চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল, ঠিক তখনই খবর এলো—শেখ হাসিনা পদত্যাগ করছেন।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের ঢল নেমে এলো রাজপথে। চারদিকে বিজয়ের আনন্দ। সবার চোখেমুখে উচ্ছ্বাস। আমার চোখের অশ্রু তখন আনন্দের নাকি বেদনার—তা বুঝে ওঠা কঠিন ছিল। এরই মধ্যে ছেলের ফোন এলো। ওপাশ থেকে সে বলল, ‘বাবা, আমরা বিজয়ী হয়েছি। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করছেন, তিনি দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিবর্ষণ এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলায় আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ বহু শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিহত হন। অসংখ্য মানুষ আহত হন, অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন এবং অনেকেই দৃষ্টিশক্তি হারান। আন্দোলনের সময়ের সহিংসতায় আহত বহু মানুষকে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এত মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়েই ৫ আগস্টের বিজয় অর্জিত হয়।

স্বৈরাচারী শাসনের পতনের মধ্য দিয়ে দেশে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে একটি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসে। তবে সেই নির্বাচন নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশ নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ তুলেছে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে জনগণের ভোটাধিকার ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিনের একদলীয় ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগও বেড়েছে। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এই পরিবর্তনের ফলে দেশের অর্জনের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ভয়ের সংস্কৃতি থেকে মুক্তি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নতুন সুযোগ এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের সম্ভাবনা।

ইতিহাসে লেখা হয়ে গেল—৫ আগস্ট ২০২৪, শেখ হাসিনার পতন। একই সঙ্গে সূচনা হলো নতুন এক বাংলাদেশের। অনেকের কাছে দিনটি ছিল নতুন আশা, নতুন শুরু এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি সুযোগ। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ ও অস্থিরতাও তৈরি হয়।

৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দেশের বাইরে থেকেও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বক্তব্য ও বিভিন্ন তৎপরতা নিয়ে সময় সময়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত দুই বছরে রহস্যময় ফোনকল, রাজনৈতিক বক্তব্য ও নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও এ সময়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একসময় শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানও বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। একইভাবে পাঁচ দশক পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক শাসনেরও পতন ঘটে। দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ও জনপ্রিয়তার পরও মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যে কোনো সময় বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে—৫ আগস্টের ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ থেকে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেওয়া জুলাইয়ের আন্দোলন ধীরে ধীরে তীব্র হয়ে ওঠে। রাজপথ মুখরিত হয় স্লোগানে। আমাদের সন্তানদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়—‘জাস্টিস, জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর’, ‘আমার ভাইকে ফিরিয়ে দে’, ‘লাশের ভেতর জীবন দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’—এমন নানা স্লোগান।

অবশেষে ৫ আগস্ট ২০২৪ প্রবল জনরোষ ও গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। তাঁর দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শাসনের অবসানকে তারা বিজয় হিসেবে উদযাপন করে।

বিজ্ঞাপন

৫ আগস্ট প্রমাণ করেছে, কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনই চিরস্থায়ী নয়। শেষ পর্যন্ত জনগণের আকাঙ্ক্ষার কাছে তাকে পরাজিত হতে হয়। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটায়। আন্দোলনের পথ ছিল রক্তাক্ত; তবুও এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনাকে নতুন করে জাগ্রত করেছে।

জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন, অপহরণ, ভোটাধিকার হরণসহ নানা ধরনের অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বৈষম্যমূলক ও কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার অবসান, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই ছিল এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা।

একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে বাস্তবায়ন করা জরুরি। এই চেতনা যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও কর্তৃত্ববাদ ও স্বৈরাচারের উত্থানের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি ন্যায়ভিত্তিক, সমতাভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। রাজনৈতিক দল ও সরকারের প্রতি আজকের দিনে দেশবাসীর প্রত্যাশা—গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া

লেখক: কলাম লেখক, রাজনৈতিক কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD