Logo

২ মাসেও খাবার গ্রহণ করেনি খানজাহান আলী মাজারের সেই কুমির

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাট
২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৩
২ মাসেও খাবার গ্রহণ করেনি খানজাহান আলী মাজারের সেই কুমির
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারসংলগ্ন দিঘি থেকে উদ্ধার করা মাদি কুমিরটিকে শেষ পর্যন্ত কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রাণীটিকে স্থায়ীভাবে কোনো উপযুক্ত আবাসস্থলে স্থানান্তরের জন্য বন বিভাগ ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। পাশাপাশি মাজারসংলগ্ন দিঘিতে নতুন দুটি কুমির দেওয়ার জন্য মাজার কর্তৃপক্ষ যে আবেদন করেছে, সেটিও অনুমোদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল গণমাধ্যমকে জানান, উদ্ধার করা মাদি কুমিরটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। আপাতত এটিকে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তবে এ ধরনের পুনর্বাসনকেন্দ্রে কোনো বন্য প্রাণীকে দীর্ঘ সময় ধরে রাখা সম্ভব নয়। তাই কুমিরটির জন্য স্থায়ী আবাসস্থল নির্ধারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বন বিভাগ।

মাজারের দিঘিতে কুমির ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে এখনো জেলা প্রশাসন বা মাজার কর্তৃপক্ষ থেকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি বলে জানান তিনি। তবে গত বছরের আগস্টে মাজার কর্তৃপক্ষ দুটি কুমির চেয়ে আবেদন করেছিল। আইন অনুযায়ী বন্য প্রাণী পালনের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ না থাকায় বিষয়টি ঢাকার সংশ্লিষ্ট বন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

উদ্ধারের পর প্রায় দুই মাস কুমিরটি কোনো খাবার গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার কুমির বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছে বন বিভাগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দি অবস্থায় কুমির দীর্ঘ সময় খাবার না খেলেও তা অস্বাভাবিক নয় এবং জোর করে খাওয়ানোর প্রয়োজন পড়ে না। বন বিভাগের ভাষ্য, কুমিরটি সুস্থ রয়েছে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ১ জুন খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টেনে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনার পর জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৩ জুন জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রায় ৪৫ বছর বয়সী মাদি কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ ২০০০ সালে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে মিঠাপানির কুমির বিলুপ্ত ঘোষণা করেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও জলাশয় থেকে কয়েকটি মিঠাপানির কুমির উদ্ধার হওয়ায় প্রাণীটির অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে আগ্রহ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD