পূবাইলে বয়লার বিস্ফোরণে তেল কারখানায় আগুন

গাজীপুরের পূবাইল এলাকায় অবস্থিত অটো গ্রিন অয়েল কোম্পানির একটি কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২০ জুন) দুপুরের দিকে নগরীর পূবাইল থানার ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ গেট (মাইজগাঁও) এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর কারখানার ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, এতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, দুপুর প্রায় ২টার দিকে কারখানার বয়লারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। বিস্ফোরণের পর কারখানার ভেতরে থাকা কর্মীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হলে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
বিজ্ঞাপন
দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান শুরু করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার পর বিকেল ৪টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত ও মূল্যায়নের কাজ চলবে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি, যা স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের শব্দ আশপাশের এলাকাতেও শোনা যায়। আগুন লাগার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির অতীতেও ভয়াবহ দুর্ঘটনার ইতিহাস রয়েছে। ২০১৬ সালের ২৩ জানুয়ারি একই স্থাপনায় পরিচালিত স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ নামের কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় ছয়জন শ্রমিক প্রাণ হারান। সে সময় কারখানাটিতে পুরোনো টায়ার পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে তেল উৎপাদন করা হতো।
পরবর্তীতে ওই ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে অটো গ্রিন অয়েল কোম্পানি রাখা হয়। দীর্ঘ সময় পর একই স্থানে আবারও বয়লার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।








