Logo

মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হত্যাকারীর মৃত্যু

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
রায়পুর, লক্ষ্মীপুর
২৫ জুন, ২০২৬, ১৬:০০
মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হত্যাকারীর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক মর্মান্তিক ঘটনায় মা ও তার দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শাহিনুরের আরেক মেয়ে, কলেজছাত্রী ইকরা আক্তার (১৭)। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অন্তর মজুমদার নামে এক যুবককে আটক করে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে শাহিনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। সকালে বাসার ভেতরে শাহিনুর ও তার তিন মেয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় এবং একজন গুরুতর আহত হন।

নিহতদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে রায়পুরে বসবাস করছিলেন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে মোট পাঁচজনকে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে মা ও দুই মেয়ে মারা গেছেন। আহত আরেক মেয়েকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া গণপিটুনিতে আহত একজনকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, নিহত তিনজনের মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহত একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে সন্দেহভাজন যুবককে গণপিটুনি দিয়ে আহত করার পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের ৬ থেকে ৭ জন সদস্য আহত হন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD