চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল চারজনের

চট্টগ্রামে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় সেপটিক ট্যাংক ও পানির রিজার্ভ ট্যাংকে কাজ করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে নগরীর ডাবলমুরিং এলাকা এবং রাউজান উপজেলায় এসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নগরীর ডাবলমুরিং থানার ধনিয়ালাপাড়া এলাকায় জাকির ম্যানশনের পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ওয়াটার রিজার্ভ ট্যাংকের সেন্টারিং খোলার কাজ চলছিল। কাজের একপর্যায়ে দুই শ্রমিক ট্যাংকের ভেতরে নামলে সেখানে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তারা অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তাদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নিহতদের একজন সাকিব। তার বাবার নাম আমিনুল হক এবং গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। অপরজন হৃদয় মিয়া (২৫)। তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মিলন মিয়া এবং মায়ের নাম নাছিমা।
একই দিনে রাউজান উপজেলাতেও ঘটে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সেখানে একটি নির্মাণাধীন বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান দুই নির্মাণশ্রমিক।
নিহতরা হলেন রাউজানের কচুখাইন এলাকার প্রদীপ দাশ এবং বোয়ালখালীর কদুরখিল এলাকার সমীরণ দাশ।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রতন ডাক্তার নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে প্রথমে প্রদীপ দাশ কাজ করতে নামেন। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
প্রদীপকে উদ্ধার করতে পরে সমীরণ দাশ ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিন্তু তিনিও একইভাবে গ্যাসের প্রভাবে অচেতন হয়ে যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত প্রদীপ দাশ ওই নির্মাণাধীন বাড়ির মালিক রতন ডাক্তারের জামাতা ছিলেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।








