Logo

সুন্দরবনে নতুন বিপর্যয়: পরগাছার থাবায় আক্রান্ত ৩০ শতাংশ সুন্দরী গাছ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাট
২৬ জুন, ২০২৬, ১৬:১৩
সুন্দরবনে নতুন বিপর্যয়: পরগাছার থাবায় আক্রান্ত ৩০ শতাংশ সুন্দরী গাছ
ছবি: প্রতিনিধি

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী গাছ এখন নতুন সংকটে পড়েছে। আগামরা (টপ ডাইং) রোগের পর এবার পরগাছার ব্যাপক আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বনাঞ্চল।

বিজ্ঞাপন

বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুন্দরবনের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সুন্দরী গাছ পরগাছায় আক্রান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক গাছ শুকিয়ে মারা গেছে।

সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, সুন্দরী গাছের কাণ্ড ও ডালপালাজুড়ে ঘনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে পরগাছা। এই পরজীবী উদ্ভিদ মূল গাছ থেকে প্রয়োজনীয় রস শোষণ করে ধীরে ধীরে গাছকে দুর্বল করে ফেলে। একপর্যায়ে পাতা ঝরে গিয়ে গাছ সম্পূর্ণ শুকিয়ে মারা যায়।

বিজ্ঞাপন

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সুন্দরবনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদী-খাল ভরাট এবং পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর সঙ্গে আগামরা রোগ ও পরগাছার বিস্তার যুক্ত হয়ে সুন্দরী গাছের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে।

জানা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় ভোলা নদীর প্রায় ১৬ কিলোমিটার অংশ ভরাট হয়ে গেছে। এতে বনের ভেতরের খালগুলোতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। জোয়ার-ভাটার পানি না পাওয়ায় সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল দুর্বল হয়ে পড়ছে। এসব দুর্বল গাছেই পরগাছার আক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ সাল থেকে সুন্দরীগাছে পরগাছার আক্রমণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে তুলনামূলক উঁচু এলাকায় এই সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে, যেখানে আগামরা রোগের প্রভাবও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২ লাখ ৪৩ হাজার হেক্টর আয়তনের পূর্ব সুন্দরবনে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ ও ৪৫৩ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাস রয়েছে। সুন্দরবনকে ঘিরে মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ, কাঁকড়া আহরণ ও পর্যটনসহ বিভিন্ন পেশায় জীবিকা নির্বাহ করেন কয়েক লাখ মানুষ। ফলে সুন্দরী গাছের অবক্ষয় উপকূলীয় অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকায়ও প্রভাব ফেলছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ওয়াসিউল ইসলাম বলেন, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবনের পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। আগামরা রোগ ও পরগাছার কারণে সুন্দরী গাছ কমে গেলে পুরো খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরগাছা নিয়ন্ত্রণ, লবণাক্ততা মোকাবিলা এবং নদী-খাল পুনঃখননের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরীকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, পরগাছা এখন সুন্দরীগাছের জন্য বড় হুমকি। ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ গাছে এর আক্রমণ দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD