Logo

ট্রিপল মার্ডারের পর আহত বোনেরও মৃত্যু, মিলেছে ঘাতকের পরিচয়

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর
২৫ জুন, ২০২৬, ১৮:৫৯
ট্রিপল মার্ডারের পর আহত বোনেরও মৃত্যু, মিলেছে ঘাতকের পরিচয়
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় আহত অবস্থায় থাকা আরেক কিশোরীও মারা গেছে। এর ফলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক মা ও তার তিন মেয়ে। অন্যদিকে ঘটনার অভিযুক্ত যুবকও গণপিটুনিতে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইকরা আক্তারের মৃত্যু হলে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক এবং রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম।

নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়া গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা যাওয়া অভিযুক্ত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার বাসিন্দা এবং রায়পুরে ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহিনুর বেগমের পরিবারের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় হলেও তারা দীর্ঘ ১২ থেকে ১৪ বছর ধরে রায়পুরে বসবাস করছিলেন। কয়েক বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী মো. কামালের মৃত্যু হলে সন্তানদের নিয়ে একাই সংসার চালিয়ে আসছিলেন শাহিনুর।

বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে শাহিনুর, তার তিন মেয়ে এবং অভিযুক্ত যুবক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা শাহিনুর, সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুতর আহত ইকরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। তবে পথেই তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এতে একই পরিবারের চারজনের প্রাণহানির ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর এলাকাবাসী সন্দেহভাজন হিসেবে অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামে পুলিশ। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত পরিবারের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার বিষয়টি জানার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

সিফাতের নিয়োগকর্তা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, সকালে কাজে আসার কারণে সিফাত কিছুই জানতেন না। পরে খবর পেয়ে তিনি চরম মানসিক আঘাতের মধ্যে পড়েন এবং স্বাভাবিকভাবে কারও সঙ্গে কথা বলার অবস্থায় নেই।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার একসময় তার স্ত্রীকে নিয়ে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে তিনি সেখান থেকে চলে যান। তবে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি ঘটনাস্থলে আসতে পেরেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, ঘটনার দিন সকালে অন্তরকে ওই বাড়ির সামনে দেখে এক প্রতিবেশী তার কাছে আসার কারণ জানতে চান। তখন তিনি পানির পাইপ মেরামতের কথা বলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় প্রতিবেশী বাড়ির কলাপসিবল গেট বন্ধ করে স্থানীয়দের খবর দেন। এতে ঘটনাটি দ্রুত প্রকাশ্যে আসে।

তবে কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে মোট পাঁচজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে শাহিনুর বেগম ও তার দুই মেয়ে প্রথমে মারা যান। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে ইকরার মৃত্যু হয়। অপরদিকে গণপিটুনিতে আহত অন্তর মজুমদারও চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান।

বিজ্ঞাপন

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু এবং পরবর্তীতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনায় রায়পুরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও পেছনের রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আশা করছে স্থানীয়রা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD