মেঘনায় ধরা পড়ল ২ কেজি ৬০০ গ্রামের ইলিশ, বিক্রি হলো যে দামে

ভোলার দৌলতখান উপজেলার মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল আকারের একটি বড় ইলিশ। প্রায় ২ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের মাছটি স্থানীয় আড়তে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ১১ হাজার ৬০০ টাকায়। বিশাল আকৃতির এ ইলিশকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মাছপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের মাঝিরহাট মাছ আড়তে মাছটির নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে একাধিক ব্যবসায়ী অংশ নিলেও সর্বোচ্চ দর দিয়ে মাছটি কিনে নেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আলম ব্যাপারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে রহমান মাঝির নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জন জেলে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে মেঘনা নদীতে যান। কয়েক ঘণ্টা মাছ ধরার পর জাল টেনে ট্রলারে তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় আকৃতির এই ইলিশটিও ধরা পড়ে। পরে মাছটি স্থানীয় আড়তে নিয়ে আসা হলে নিলামের আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
মাছটি দেখতে আড়তে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। আকার ও ওজনের কারণে অনেক ব্যবসায়ী এটি কিনতে আগ্রহ দেখান। শেষ পর্যন্ত ১১ হাজার ৬০০ টাকার সর্বোচ্চ দর দিয়ে মাছটি সংগ্রহ করেন আলম ব্যাপারী।
মাছটির ক্রেতা আলম ব্যাপারী জানান, নদীতে এত বড় আকারের ইলিশ খুব একটা দেখা যায় না। ব্যতিক্রমী আকৃতির হওয়ায় আগ্রহের বশেই তিনি মাছটি কিনেছেন। তার পরিকল্পনা মাছটি রাজধানী ঢাকায় পাঠিয়ে আরও বেশি দামে বিক্রি করার। তিনি আশা করছেন, বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে মাছটি ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি করা সম্ভব হবে।
মৎস্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মৌসুমে বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা নদীতে মাছের প্রাচুর্যের ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ফলে নদীতে ইলিশের উৎপাদন ও বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইলিশ সংরক্ষণে আরোপিত দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় এর সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। জেলেরা নদীতে গিয়ে শুধু বড় ইলিশ নয়, অন্যান্য প্রজাতির বড় মাছও বেশি পরিমাণে পাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, প্রজনন ও মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে নদীতে মাছের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং জেলেদের আয়ও বাড়বে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় জেলেদের মতে, কয়েক বছর আগের তুলনায় বর্তমানে নদীতে বড় আকারের ইলিশের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পর এমন বড় ইলিশ ধরা পড়ায় তারা যেমন আনন্দিত, তেমনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের মাছের প্রাচুর্য বজায় থাকবে বলে আশাবাদী।








