Logo

কোস্টগার্ডের সঙ্গে ‘দুলাভাই বাহিনীর’ গোলাগুলি, নিহত বনদস্যু

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
খুলনা
২৬ জুন, ২০২৬, ২০:০৯
কোস্টগার্ডের সঙ্গে ‘দুলাভাই বাহিনীর’ গোলাগুলি, নিহত বনদস্যু
ছবি: সংগৃহীত

খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযানের সময় কথিত বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সওকত সরদার (৬০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও দুজন, যাদের চিকিৎসা চলছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নিহত সওকত সরদার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত এজাহার আলীর ছেলে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন একই এলাকার মৃত মানিক গাজীর ছেলে রবিউল ইসলাম এবং সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার আটালি বাগালি গ্রামের ইসমাইল হাওলাদারের ছেলে ইসরাফিল হাওলাদার (২৭)।

বিজ্ঞাপন

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজাউল ইসলাম জানান, শুক্রবার ভোরে কোস্টগার্ড সদস্যরা দুই দফায় গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে সওকত সরদারকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। গুরুতর আহত রবিউল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে দুপুরে পুলিশ আরেক আহত ব্যক্তি ইসরাফিল হাওলাদারকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার ডান হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি পায়েও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

এদিকে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোন বাহিনী অভিযানে অংশ নিয়েছিল, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

ঘটনার পর শুক্রবার দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠান। সেখানে নিহতের বিষয়টি উল্লেখ না থাকলেও অভিযানের সময় ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের সঙ্গে রাতভর গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলনার কয়রা থানার বনপাড়া-সংলগ্ন সুন্দরবনের গভীরে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের সময় কোস্টগার্ড সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদলের সদস্যরা তাদের নৌকা থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। সংঘর্ষের পর তিনজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

কোস্টগার্ড আরও জানিয়েছে, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং পলাতক বনদস্যুদের গ্রেপ্তার করা। এ লক্ষ্যে অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। অভিযান শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।

বিজ্ঞাপন

সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি কোস্টগার্ডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া সতর্ক করে বলা হয়েছে, অভিযানের চাপে দুলাভাই বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশ কিংবা আশপাশের লোকালয়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে কোস্টগার্ড।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD