খুলনার দাকোপে অসহনীয় লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন

খুলনার দাকোপে তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন।
বিজ্ঞাপন
একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ, অন্যদিকে বিদ্যুতের অনিয়মিত আসা-যাওয়া—সব মিলিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়াই যখন-তখন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে ঘুমাতে পারছেন না মানুষ। অথচ মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে কোনো ছাড় নেই বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাতে মোমবাতি, চার্জার লাইট বা বিকল্প ব্যবস্থায় পড়াশোনা করতে হচ্ছে তাদের। প্রচণ্ড গরমে পড়ালেখায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
বিজ্ঞাপন
বাজুয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা কাঁচামাল, মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও শিশুরাও গরমে চরম দুর্ভোগে রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দাকোপবাসী। অনেক নাগরিক অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপ খেলা চলায় বিদ্যুতের এই সমস্যায় ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকরাও হতাশ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে দাকোপ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম বলেন, জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম এবং কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি তিনি।
দাকোপবাসীর দাবি, দ্রুত লোডশেডিং পরিস্থিতির সমাধান করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পান।








